শত বছরের বেশি সময়ের রেকর্ড ভেঙে ভয়াবহ তাপপ্রবাহের কবলে পড়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হওয়ার পর আক্রান্ত এলাকার মানুষকে দ্রুত সব ধরনের বাইরের কার্যক্রম বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ।
দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর ইয়াংসানে রবিবার (২ আগস্ট) স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ২৬ মিনিটে ৪২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় বলে জানিয়েছে কোরিয়া মেটিওরোলজিক্যাল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (কেএমএ)।
চলমান তাপপ্রবাহের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে ইয়াংসান। সেখানে টানা পঞ্চম দিনের মতো তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে ছিল। একই সঙ্গে দেগু ও বুসানসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রির শেষ ভাগে পৌঁছেছে।
তীব্র গরম থেকে বাঁচতে মানুষ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শপিংমল, ক্যাফে ও অন্যান্য স্থানে আশ্রয় নিচ্ছেন। রাজধানী সিউলের একটি ক্যাফেতে আশ্রয় নেওয়া ২৭ বছর বয়সী জু ডং-ইয়ল বলেন, “বাইরে কিছু করার মতো পরিস্থিতি নেই। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত জায়গায় থাকা ছাড়া আর কোনো উপায় দেখছি না।”
কেএমএ জানিয়েছে, শনিবার দেশটির ২০টির বেশি এলাকায় জরুরি তাপপ্রবাহ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অনুভূত তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা প্রকৃত তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছানোর আশঙ্কা থাকলে এ ধরনের সতর্কতা জারি করা হয়।
আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ মানুষকে দ্রুত ঠান্ডা ও নিরাপদ স্থানে যাওয়ার পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ছাড়া ঘরের ভেতর দীর্ঘসময় অবস্থান করাও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
কেএমএর তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়ায় গত পাঁচ বছরে বার্ষিক গড় তাপপ্রবাহের দিনের সংখ্যা বেড়ে ১৯ দিনে দাঁড়িয়েছে। ১৯৭০-এর দশকে এ সংখ্যা ছিল মাত্র ৮ দিন।
তাপপ্রবাহের কারণে দক্ষিণ কোরিয়ার পেশাদার বেসবল লিগের একটি ম্যাচ বাতিল করা হয়েছে। চাংওন শহরে তাপমাত্রা ৩৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছানোর পর খেলোয়াড় ও দর্শকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ম্যাচ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় কোরিয়া বেসবল অর্গানাইজেশন।
সংস্থাটি জানিয়েছে, চাংওন এলাকায় তীব্র তাপপ্রবাহ সতর্কতা বহাল থাকায় স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহসহ চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও ঘন ঘন ও তীব্র হচ্ছে। পাশাপাশি ২০২৬ সালে প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণতা বৃদ্ধিকারী প্রাকৃতিক জলবায়ু প্রক্রিয়া ‘এল নিনো’র প্রভাবও বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।
এদিকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও চলছে তীব্র তাপপ্রবাহ। দক্ষিণ ইউরোপের কয়েকটি অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়েছে। ইতালি, স্পেনসহ কয়েকটি দেশে স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ইতালির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৩ আগস্ট থেকে দেশটির প্রায় সব বড় শহরে সর্বোচ্চ পর্যায়ের তাপ সতর্কতা কার্যকর করা হবে।
সূত্র: স্ট্রেইটস টাইমস
Leave a Reply