ইরান যুদ্ধে নেমে খালি হতে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী অস্ত্রভাণ্ডার। মার্কিন গণমাধ্যমগুলোর একের পর এক প্রতিবেদনে বেরিয়ে আসছে অস্ত্র সংকটের খবর। যুদ্ধ চালিয়ে যেতে মার্কিন সিনেটে অতিরিক্ত তহবিল বরাদ্দ চেয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। যদিও অস্ত্র ফুরিয়ে আসার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক অস্ত্র তৈরির কাজ চলছে বলেও দাবি করেছেন।
গত চার মাস ধরেই বারবার ইরানে ভয়াবহ আঘাত হানার হুমকি দিয়েও শেষ মুহূর্তে হামলার পরিকল্পনা বাতিল করে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিরতি দিয়ে খামেনির দেশে সামরিক অভিযান চালালেও যুদ্ধ শুরুর প্রথম দুই মাসের মতো শক্তিশালী হামলা এখন এক প্রকার বন্ধ। খোদ মার্কিন গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন বলছে যুদ্ধবাজেট আর অস্ত্রভাণ্ডারে টান পড়ায় ইরানে আর আগের মতো বিধ্বংসী হামলা চালাতে পারছে না আমেরিকা। তবে এমন দাবি মানতে নারাজ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন অস্ত্র সংকটের খবর ফাঁস হওয়ায় ক্ষুব্ধ ট্রাম্প এবার গণমাধ্যগুলোর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়া হুমকি দিয়েছেন। প্রশ্ন উঠেছে, আমেরিকার যুদ্ধাস্ত্রের সংকট নিয়ে কি সত্যি মিথ্যাচার করছে গণমাধ্যমগুলো? নাকি থলের বেড়াল লুকিয়ে রাখতে গণমাধ্যমের মুখ বন্ধ করতে চাইছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট?
মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সিবিএস নিউজ নেটওয়ার্ক জানিয়েছে, ইরানের সাথে যুদ্ধের পাঁচ মাসেই নির্ভুল দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের সমস্ত মজুদ শেষ করে ফেলেছে মার্কিন বাহিনী। বিশেষ করে এটাকামস-Army Tactical Missile System ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ প্রায় শেষের পথে। এর আগে সিএনএন জানিয়েছিলো, ইরানে হামলা চালাতে গিয়ে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা-থাডের প্রায় ৮০ শতাংশ আর প্যাট্রিয়টের প্রায় অর্ধেক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ শেষ করে ফেলেছে আমেরিকা
গণমাধ্যমগুলোর এমন প্রতিবেদনের কড়া জবাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সামরিক সরঞ্জামের বিশাল মজুদ রয়েছে। থাড এবং প্যাট্রিয়টের মতো প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো মার্কিন ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক অস্ত্র তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সংবাদমাধ্যমগুলো বিশ্বাসঘাতকের মতো অপতথ্য প্রচার করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তবে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে গত মাসেই মার্কিন সিনেট অ্যাপ্রোপ্রিয়েশন কমিটির এক শুনানিতে, কংগ্রেসের কাছে অতিরিক্ত ছয় হাজার ৭০০ কোটি ডলার বরাদ্দ চান প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। সামরিক প্রশিক্ষণ চালিয়ে যেতে এবং অস্ত্রের মজুত পুনর্গঠন করতে এই অর্থ প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন পেন্টগন প্রধান। অতিরিক্ত বরাদ্দ ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়া খুব শিগগিরই অসম্ভব হয়ে পড়বে বলেও উদ্বেগ জানান তিনি।
সিনেটের শুনানিতে অস্ত্রের মুজদ ফুরিয়ে যাওয়ার বিষয়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথ বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন খোদ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ বিষয়ে প্রেসিডেন্টের কাছে জবাবদিহি করতে হয়েছে প্রতিরক্ষআ মন্ত্রীকে। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট। যদিও এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমের পোস্টে ট্রাম্প জানান, পিট হেগসেথের সাথে তার কোনো ধরণের মতবিরোধ নেই। প্রতিরক্ষামন্ত্রী অনেক ভালো কাজ করছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
যতো দিন গড়াচ্ছে ততোই ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরের কোন্দল প্রকাশ পাচ্ছে, স্পষ্ট হয়ে উঠছে মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডারের দৈন্যদশা। গণমাধ্যমকে চোখ রাঙিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প কতদিন সত্যি লুকিয়ে রাখতে পারেন সেটাই এখন দেখার।
Leave a Reply