৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর, কার্যত সরকারবিহীন দেশ। রাষ্ট্র পরিচালনা, আইন-শৃঙ্খলা, জনজীবন স্বাভাবিক করা এবং নতুন প্রশাসনিক কাঠামোর প্রস্তুতি-সব মিলিয়ে দিনজুড়ে ছিল ব্যস্ততা। অনিশ্চয়তার আবহের মধ্যেও দেশের নানা প্রান্তে ছিলো স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা।
জনতার মহা অভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতন ও ভারতে পলায়নের জয়োল্লাসে মাতোয়ারা মানুষ। একই সাথে ছিল অনিশ্চয়তা। পুরো একটি সরকার পালিয়ে গেছে, বিকল্প কোনও সরকার গঠন হয়নি। আর তাই দেশের প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখাই হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ৭ আগস্ট বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে নিয়মিত কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা দেখা যায়। জরুরি সেবাগুলো যাতে কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সে লক্ষ্যেই দায়িত্ব পালন করেন সংশ্লিষ্টরা। রাজধানীসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বাড়ানো হয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
দীর্ঘ অস্থিরতার পর জনজীবনকে স্বাভাবিক ধারায় ফেরানোর উদ্যোগও ছিল এ দিনে। ব্যাংকিং কার্যক্রম, হাসপাতালের সেবা, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ এবং গণপরিবহন চালু রাখতে নেওয়া হয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মীরা কাজে ফিরতে শুরু করেন। কোথাও পূর্ণমাত্রায়, কোথাও সীমিত পরিসরে চলে কাজ।
শুধু প্রশাসনিক কার্যক্রম নয়, বিভিন্ন স্থানে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়। ক্ষতিগ্রস্ত সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনা ঘিরে শুরু হয় পুনর্বিন্যাসের কাজ। সাধারণ মানুষ, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত অংশগ্রহণে অনেক জায়গায় ফিরে আসে স্বাভাবিক পরিবেশের আভাস।
একই সময়ে দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ভবিষ্যৎ নিয়েও চলতে থাকে নানা আলোচনা। অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্র পরিচালনার প্রস্তুতি, প্রশাসনিক দায়িত্ব বণ্টন এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নিয়ে দেশজুড়ে ছিল ব্যাপক আগ্রহ। পরিবর্তিত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছিল আন্তর্জাতিক মহলও। দেশের মানুষ অপেক্ষা করছিল স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ এবং কার্যকর রাষ্ট্র পরিচালনার নতুন অধ্যায়ের জন্য। এ দিন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে অর্থনীতিবিদ ও নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনুসকে প্রধান করে সরকার গঠনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অনিশ্চয়তার ভেতরেও প্রশাসন, জনজীবন এবং রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমকে স্বাভাবিক ধারায় ফিরিয়ে আনতে দিক নির্দেশনা দেন লন্ডনে অবস্থান করা তৎকালীন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
জনতার অভ্যুত্থানের পর মানুষের সচেতনতা আর শক্তিতেই বলা যায় তখন চলছিল রাষ্ট্র, জুলাই যোদ্ধাসহ সর্বস্তরের মানুষ সচেতনভাবে চেষ্টা করেছেন রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আর অরাজকতা রোধে।
Leave a Reply