বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনের পিপলস প্ল্যানারি শুরু হয় ফিলিস্তিনে গণহত্যার ভিডিও দিয়ে। সেই ভিডিওতে প্রদর্শন করা হয় গাজায় শহীদদের নামও। ভিডিও চলাকালীন সময় মঞ্চে উঠে আসেন ফিলিস্তিনি জলবায়ু কর্মী জানা রাশেদ। কান্না জড়িত কণ্ঠে তিনি তুলে ধরেন ফিলিস্তিনে অমানবিকতার চিত্র। ফিলিস্তিনি এই নারীর বক্তব্যে মুহূর্তে পিনপতন নিরবতা নেমে আসে জলবায়ু সম্মেলনের কাস্পিয়ান হলরুমে। শোক আর ক্ষোভে ভরা তার শব্দচয়ন ভিজিয়ে দেয় সবার চোখ।
ফিলিস্তিনে গণহত্যা বন্ধের পাশাপাশি বিশ্বের কোথাও যুদ্ধ বা গণহত্যার পেছনে অর্থ ব্যয় না করে সেই অর্থ জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলায় বিনিয়োগের দাবি জানান এই ফিলিস্তিনি নারী।
জানা রাশেদের বক্তব্য শেষে তার সমর্থনে দাঁড়িয়ে যায় পুরো হলরুমের মানুষ। হাতে তালি আর স্লোগানের মাধ্যমে একাত্মতা প্রকাশ করে পুরো বিশ্ববাসী।
ফিলিস্তিনের এই নারীর পর সুদানের জলবায়ু কর্মী লীনা ইসাও শক্ত অবস্থান তুলে ধরেন গাজা, লেবানন ও সুদানে গণহত্যার বিরুদ্ধে। তিনি তার বক্তব্যে দাবি করেন, বিশ্ব মোড়লদের টাকা সংকট নয়, তাদের সংকট মানসিকতার। তারা জলবায়ু পরিবর্তনে দায়ী হয়েও একদিকে জলবায়ু ফান্ডে টাকা দিতে গড়িমসি করছে অন্যদিকে যুদ্ধের পেছনে অর্থ ব্যয় করে গণহত্যার রসদ যোগাচ্ছে।
এ সময় তিনি ফিলিস্তিনি, লেবানিজ এবং সুদানী জনগণের বিরুদ্ধে সংঘটিত গণহত্যার জন্য জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করতে দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।
বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) ২৯তম বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনের ৯ম দিন আজারবাইজানের স্থানীয় সময় বিকেলে কাস্পিয়ান হলরুমে অনুষ্ঠিত হয় নাগরিক সমাজের সদস্যদের প্ল্যানারি আলোচনা। ফিলিস্তিনের সমর্থনে পিপলস প্ল্যানারির মঞ্চে বসা সবার গায়ে ছিল ফিলিস্তিনে স্মারক গামছা।
এশিয়ান পিপলস মুভমেন্ট অন ড্যাট এন্ড ডেভেলপমেন্ট এর সমন্বয়ক লিডি ন্যাকপিলের সঞ্চালনায় ২ ঘণ্টার এই প্ল্যানারি আলোচনার শিরোনাম ছিল “পে আপ, স্ট্যান্ড আপ: ফিনান্স ক্লাইমেট অ্যাকশন, নট জেনোসাইড”। জলবায়ু সম্মেলন থেকে ক্ষতিগ্রস্ত রাষ্ট্রগুলোকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের সুনির্দিষ্ট কোনো ঘোষণা না আসায় সামাবেশের শেষ প্রান্তে জলবায়ুর এই শীর্ষ সম্মেলনকে বার্ষিক উদযাপন বলে আখ্যা দেন প্ল্যানারির সহসভাপতি।
উল্লেখ্য, গত ১১ নভেম্বর আজারবাইজানের বাকুতে শুরু হওয়া ২৯তম জলবায়ু সম্মেলন শেষ হবে ২২ নভেম্বর। এবারের সম্মেলনে বিশ্বের ১৯৮টি দেশের ৮০ হাজারের বেশি মানুষ অংশ নিয়েছেন। অর্থায়ন নির্ধারণের এই সম্মেলনে শতাধিক দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা অংশ নিলেও অংশ নেয়নি জলবায়ু পরিবর্তনে দায়ী রাষ্ট্রগুলোর শীর্ষ কর্তারা।
Leave a Reply