শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে ফিরিয়ে এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, অন্যথায় গণহত্যার সঠিক বিচার হবে না বলে মন্তব্য করেছেন গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁন। তিনি বলেন, ‘আমরা গণহত্যাকারী দল আ.লীগ ও জাতীয় পার্টির সাথে কোন সমঝোতা মানবো না।’ রবিবার (১৫ ডিসেম্বর) কক্সবাজারের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, হানাহানিমুক্ত সম্প্রীতির বাংলাদেশ গঠন ও রাষ্ট্র সংস্কারে করণীয় শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
গণঅধিকার পরিষদ, কক্সবাজার জেলা আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতায় রাশেদ খাঁন বলেন, আগামী ১ মাসের মধ্যে কক্সবাজারকে মাদকমুক্ত জেলা হিসেসে ঘোষণা করতে হবে। কক্সবাজারের মানুষ আমার কাছে অভিযোগ করেছে, এখানে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নাই। ডিসি-এসপি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারছে না। এখনো আ.লীগের প্রেতাত্মারা ঘুরে বেড়াচ্ছে। যারা এখানে গুম খুনের নির্দেশদাতা, তারা বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে, কাউকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, এই কক্সবাজারে ওসি প্রদীপের তাণ্ডব আমরা দেখেছি। ২০০ এর অধিক মানুষকে সে ক্রসফায়ার দিয়ে হত্যা করেছে। কিন্তু, কাদের নির্দেশে তিনি হত্যা করলেন? তাদেরকে কি বিচারের আওতায় আনা হয়েছে? এখানে মেজর সিনহা হত্যার শিকার হয়েছে। তখন কোন গণমাধ্যম নিউজ করেনি। আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদ করেছি। এরপর আলোচনায় আসে, ওসি প্রদীপ আটক হয়।
মায়ানমার থেকে টেকনাফ হয়ে বাংলাদেশে ইয়াবা আসে। এতে বিজিবির হাত থাকার অভিযোগ আছে। টেকনাফ সীমান্তে সিসি ক্যামেরা বসাতে না পারলে এগুলো ধরা যাবে না। আমরা চাই না টেকনাফে আর কোন বদির জন্ম হোক। বদির সাম্রাজ্য ভেঙে-চুরে খান খান করতে হবে।
রাশেদ খাঁন বলেন, আমাদের স্পষ্ট কথা, শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে ফিরিয়ে আনতে হবে। এখনো শেখ পরিবার ও আওয়ামী হাইকমান্ডের কেউ গ্রেফতার হয়নি। তার মানে কি এখানে কোন সমঝোতা হয়েছে? আমরা গণহত্যাকারী দল আ.লীগ ও জাতীয় পার্টির সাথে কোন সমঝোতা মানবো না। আগামী নির্বাচনে তারা অংশগ্রহণ করতে পারবে না। অবশ্যই তাদের নিষিদ্ধ করতে হবে। জাপাকে ৯১ তে সুযোগ দেওয়ার খেসারত আজও দিতে হচ্ছে। আ.লীগকে এবার সুযোগ দিয়ে এই খেসারত আর দিতে চাই না। এই কক্সবাজারের মানুষ অত্যন্ত সহজ সরল। এখানে মহান আল্লাহর রহমত রয়েছে। প্রাকৃতিক সম্পদের ভাণ্ডার এই কক্সবাজার। এই জেলাকে মডেল জেলা হবে হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আর কোন গুম খুন এখানে হতে দেওয়া যাবে না।
উক্ত সভায় আরও বক্তব্য রাখেন উচ্চতর পরিষদ সদস্য শহীদুল ইসলাম ফাহিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুন্নাহার ডলি, সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্রগ্রাম) লোকমান হোসাইন, কেন্দ্রীয় পার্বত্য বিষয়ক সম্পাদক আবদুল কাদের প্রাইম, এ্যাড.মোঃ নাজিম উদ্দীন, সভাপতি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ, গণ অধিকার পরিষদ, মোঃ শাহ্ আলম সভাপতি, চট্টগ্রাম মহানগর, গণ অধিকার পরিষদ, ডাক্তার ইমদাদুল হাসান, আহ্বায়ক, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা, রোরহান উদ্দিন, আহ্বায়ক, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা, মোরশেদ আলী, সদস্য সচিব, কক্সবাজার জেলা, নাজমুল হাসান, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ। সভায় সভাপতিত্ব করেন মোঃ হেলাল উদ্দিন, আহ্বায়ক, কক্সবাজার জেলা, সদস্য সচিব মোরশেদ আলী,কক্সবাজার জেলা, এছাড়া কক্সবাজার জেলার সিনি. যুগ্ম আহ্বায়ক ফকরুল আলমসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
Leave a Reply