সম্প্রতি, পূর্ব জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদে সফর করেছেন ইসরাইলের মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। তার এ সফর নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বেন-গভিরের এ সফরকে উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে মিশর। এ সফরকে অঞ্চলের নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতার জন্য একটি গুরুতর বিপদ হিসেবে চিহ্নিত করে সতর্ক করেছে মিশরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে, যাতে ওই এলাকায় ভবিষ্যতে এমন কোনো উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড না করা হয়।
আল-আকসা মসজিদে ইহুদি ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও, বেন-গভির বৃহস্পতিবার অন্যান্য ইসরাইলি নাগরিকদের সাথে সেখানে প্রবেশ করেন। এসময়, ইসরাইলি পুলিশ তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। পুলিশের পাহারায় বেন-গভির ও অন্যান্যরা সেখানে প্রার্থনা ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেন। এ ঘটনার সময়, ফিলিস্তিনিদের ওই স্থানে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়।
দীর্ঘদিনের আইন অনুযায়ী, বিভিন্ন ধর্মের মানুষ ওই স্থানটি পরিদর্শন করতে পারেন। তবে, আল-আকসা মসজিদ শুধুমাত্র মুসলিমদের জন্য নির্ধারিত নামাজের স্থান, কারণ এ মসজিদটি ইসলামের তৃতীয় পবিত্র স্থান হিসেবে পরিচিত। পাশাপাশি, এ মসজিদকে ফিলিস্তিনিদের জাতীয় পরিচয়ের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকও মনে করা হয়।
এদিকে, গাজা শহরের একটি ভবনে ইসরাইলি বাহিনীর বিমান হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছে। গাজায় শীতের তীব্রতার কারণে উদ্বাস্তু শিবিরে থাকা আরও এক শিশু মারা গেছে। এ নিয়ে গত ৭২ ঘণ্টায় ৪ শিশু মৃত্যুবরণ করেছে। হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি উদ্বাস্তু শিবিরগুলোতে ঠাণ্ডা থেকে বাঁচতে সংগ্রাম করছে। গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় এখন পর্যন্ত ৪৫,৩৯৯ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ১,০৭,৯৪০ জন।
অধিকৃত পশ্চিম তীরের হালহুল শহরের একটি ঐতিহাসিক প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সংবাদ সূত্রে জানা গেছে, অন্তত ৮টি বাসে করে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীরা শহরে পৌঁছায় এবং তারা সেখানে আরব ও ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও স্লোগান দিতে দিতে একটি প্রার্থনা অনুষ্ঠান পালন করে।
ইসরাইলি বাহিনী বসতি স্থাপনকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেখানে উপস্থিত ছিল। এসময়, স্থানীয় ফিলিস্তিনি যুবকদের সাথে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। হালহুল শহরটি তার ঐতিহাসিক গুরুত্বের জন্য পরিচিত। এখানেই অবস্থিত নবী ইউনুস (আঃ)-এর মসজিদ, যিনি বাইবেলে যোনাস নামে পরিচিত। মনে করা হয়, এখানেই তাঁর সমাধিস্থল ছিল, যা মুসলিমদের জন্য পবিত্র স্থান হিসেবে বিবেচিত।
Leave a Reply