মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের কানাডা দখলে নেয়ার হুমকি নিছক ঠাট্টা নয়। বিস্ফোরক এই সতর্কতা জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। তাহলে কী কানাডার দখল নিতে প্রয়োজনে মার্কিন সেনাও পাঠাতে পারেন ট্রাম্প? ট্রুডোর সতর্কতার জেরে ডালপালা মেলছে এমন জল্পনা-কল্পনা।
টরেন্টো স্টারস, রয়টার্সসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে কানাডার পণ্যরপ্তানির ওপর বাড়তি করারোপের ব্যাপারে ট্রাম্পের পরিকল্পনা মোকাবেলায় করণীয় নির্ধারণে শুক্রবার ব্যবসায়ী ও শ্রমিক নেতাদের সম্মেলন ডাকেন ট্রুডো। সেই সম্মেলনের ফাঁকেই একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকে অংশ নেন তিনি। সেখানেই কানাডার ব্যাপারে ট্রাম্পের আগ্রাসী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কথা বলছিলেন। কিন্তু, ভুলবশত মাইক্রোফোন অন থাকায় তা প্রকাশ্যে চলে আসে।
রুদ্ধদ্বার ওই বৈঠকে ট্রুডো বলেন, কানাডা দখলে নেয়ার ব্যাপারে ট্রাম্পের হুমকি কেবলই কথার কথা নয়। এটি সত্যিকারের হুমকি। ট্রাম্প এ ব্যাপারে সিরিয়াস।
কেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য বানাতে চান, সে প্রসঙ্গে ট্রুডো বলেন, কানাডা বিপুল খনিজ ও প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ একটি দেশ। মূলত সেদিকেই চোখ পড়েছে ট্রাম্পের।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট খুব ভালো করেই জানেন, কানাডার খনিজ সম্পদের মধ্যে আছে অনেক দুর্লভ খনিজও। সেগুলো কাজে লাগিয়ে কীভাবে লাভবান হওয়া যায়, সেটিও তার জানা। আর তা বাস্তবায়নে সবচেয়ে সহজ কৌশল হলো কানাডাকে মার্কিন অঙ্গরাজ্য বানানো। ট্রাম্প সেটাই মাথায় নিয়েছেন বলে অভিমত ট্রুডোর।
পরবর্তী সময়ে ট্রেড ইউনিয়ন সংস্থা ‘আলবার্টা ফেডারেশন অব লেবার’-এর প্রেসিডেন্ট গিল ম্যাকগাওয়ান কানাডা বিষয়ে ট্রাম্পের পরিকল্পনা নিয়ে ট্রুডোর বক্তব্যের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। প্রধানমন্ত্রীর বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ট্রাম্প কানাডার বিরুদ্ধে মাদক পাচার, অবৈধ অভিবাসী অনুপ্রবেশ বা বাণিজ্য ঘাটতির যেসব অভিযোগ আনছেন, সেগুলো মুখ্য বিষয় নয়, তার মূল অভিসন্ধি- হয় কানাডাকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করো না হয় সরাসরি দখলে নাও।
অনেক বিশ্লেষকের মতে, লিথিয়াম, গ্রাফাইট, নিকেল, কপার, কোবাল্টসহ মূল্যবান অনেক খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ কানাডা। এসব খনিজের জন্য কানাডার ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প চাইছেন এগুলো করায়ত্ত করতে।
দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই নানা সময় কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার হুমকি দিয়ে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। প্রয়োজনে অর্থনৈতিক শক্তি প্রয়োগেরও হুমকি দিয়ে আসছেন তিনি। এর অংশ হিসেবে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে কানাডার পণ্য রপ্তানির ওপর স্বল্প পরিসরে ২৫ শতাংশ কর আরোপ করেন ট্রাম্প। তবে পরে কানাডার সাথে সমঝোতার ভিত্তিতে ওই কর কার্যকরে এক মাসের ছাড় দেন তিনি।
বাণিজ্য ঘাটতির বাইরে যুক্তরাষ্ট্রে ফেন্টালনসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য পাচার ও অবৈধ অভিবাসীর অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কানাডা যথেষ্ট উদ্যোগ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ ট্রাম্পের। এ বাস্তবতায়, সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যৌথ টাস্ক ফোর্স গঠনের লক্ষ্যে ৯০০ মিলিয়ন ডলারের তহবিল ঘোষণা করেছে কানাডা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, কানাডার ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই তাদের নানাভাবে চাপে রাখছেন ট্রাম্প। তবে তার বিতর্কিত এসব পদক্ষেপে কানাডাবাসীর মধ্যে নতুন করে জেগে উঠছে জাতীয়তাবাদী চেতনা।
Leave a Reply