ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার প্রেক্ষাপটে সামরিক শক্তি প্রদর্শনে একের পর এক চমক দেখাচ্ছে ইরান। এবারে প্রথমবারের মতো হেলিকপ্টার, ড্রোন ও মিসাইল বহনে সক্ষম যুদ্ধজাহাজ প্রকাশ্যে এনেছে তারা। এটিকে বলা হচ্ছে ‘ভাসমান আতঙ্ক’। এ নিয়ে তেল আবিব, ওয়াশিংটনসহ পশ্চিমা বিশ্বে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, ওই যুদ্ধজাহাজ থেকে ইসরাইলে মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালাতে পারে ইরান। এ প্রেক্ষাপটে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় আছে তেল আবিব। দূর পাল্লার মিসাইল উৎক্ষেপণের পাশাপাশি সামুদ্রিক মাইন স্থাপনেও সক্ষম এটি।
শহীদ বাঘেরি নামে ২৪০ মিটার দৈর্ঘ্যের এই যুদ্ধজাহাজে ড্রোন উড্ডয়নের জন্য আছে ১৮০ মিটারের রানওয়ে। স্কি জাম্প র্যাম্প থাকায় এই রানওয়ে দিয়ে সহজেই ড্রোন ওঠা-নামা করতে পারবে। ড্রোনের উড্ডয়ন নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে উন্নত প্রযুক্তির বন্দোবস্ত। এটিতে একই সাথে সাবমেরিন, মিসাইল ও হেলিকপ্টারের বহর মোতায়েন করা সম্ভব, যা একটি সামরিক ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একবার জ্বালানি নিয়েই একটানা ২২ হাজার নটিক্যাল মাইল পাড়ি দিতে সক্ষম শহীদ বাঘেরি। এটিতে একটি হাসপাতাল ও ক্রুদের জন্য জিমের ব্যবস্থাও আছে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কমান্ডার হোসেইন সালামি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, শত্রুদের হামলা প্রতিহত করতে এই যুদ্ধজাহাজ ব্যাপক মাত্রায় তেহরানের সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই যুদ্ধজাহাজের মধ্য দিয়ে স্থলসীমার বাইরে ভাসমান একটি সামরিক ঘাঁটির বন্দোবস্ত করলো ইরান, যা দিয়ে শত্রুপক্ষের ওপর বহুমুখী হামলা চালানো সম্ভব। এটি ইসরাইলের কৌশলগত বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালাতে ব্যবহৃত হতে পারে। একই সাথে হিজবুল্লাহ বা হুথিদের সহায়তার ক্ষেত্রেও কাজে লাগানো যেতে পারে এটিকে।
অন্যদিকে যুদ্ধংদেহী অবস্থান থেকে এই যুদ্ধজাহাজকে হরমুজ প্রণালীতে মোতায়েন করলে বৈশ্বিক বাণিজ্যকে হুমকিতে ফেলতে পারে তেহরান। সার্বিক প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও পশ্চিমা বিশ্বের জন্য নতুন এক আতঙ্ক হয়ে দেখা দিয়েছে শহীদ বাঘেরি।
এদিকে গাজা ও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির সুযোগে সংঘর্ষে জড়ানোর দুঃসাহস দেখালে একদিনের মধ্যেই ইসরাইল দখলে নেয়ার হুমকি জানিয়েছে মিশর। দেশটির আইনপ্রণেতা মোস্তফা বাকেরি বলেছেন, ইসরাইল মিশরের সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে ধারণাই রাখে না। মিশর কোনোভাবে আক্রান্ত হলে একদিনের মধ্যেই তেল আবিবের পতন হবে। ইসরাইলি যুদ্ধবিমানগুলো হামলার জন্য আকাশে ওড়ারও সময় পাবে না।
Leave a Reply