হয়ত একটি আনন্দের ঈদ উদযাপনের দিন গুনছিল গাজার শিশুরা। হয়ত ছিলও অনেক স্বপ্নও। তবে, তাদের এই স্বপ্ন এখন ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে ইসরাইল। এই শিশুরা হয়তো ভাবছিল, এই রমজানের পর প্রথমবারের মতো তারা কোন বিমান হামলা ছাড়া ঈদ উদযাপন করবে। সম্প্রতি, তাদের সেই স্বপ্নকে একটি রক্তাক্ত বাস্তবতায় পরিণত করেছে সেই দানব ইসরাইল। গাজার যে শিশুদের খেলনা ও নতুন জামা পড়ে পরিবারের সাথে ঈদ উদযাপন করার কথা ছিল, তাদের অনেকেই এখন না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছে।
গাজার আকাশে এখন আর উৎসবের ধ্বনি শোনা যায় না, শোনা যায় কেবল বিস্ফোরণের শব্দ। ফিলিস্তিনিদের রমযান মাস এখন এক যুদ্ধের মাসে পরিণত হয়েছে। যেখানে নেই খাবার, পানি, ঔষধ, জ্বালানি, কোন কিছুই। ছোট ছোট শিশুদের চোখে ভয়, আতঙ্ক। একের পর এক বিমান হামলায় নরকে পরিণত হয়েছে গাজা।
এদিকে, গাজার দক্ষিণ, মধ্য ও উত্তরাঞ্চলসহ আরও নতুন নতুন এলাকায় আঘাত হানছে ইসরাইলের যুদ্ধবিমান। খান ইউনিস ও রাফাহ এলাকা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে একেকটা বিস্ফোরণে। নিহতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে।
পূর্ব গাজায় গুলির শব্দ আর ড্রোনের মহড়ায় দিক-বেদিক হয়ে ছুটছেন অসহায় ফিলিস্তিনিরা। গাজার মানুষের অবস্থা এখন একেবারেই বিধ্বস্ত ও বিপর্যস্ত। আর সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছে নিরীহ শিশুরা। এই পরিস্থিতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।
বিশ্ব মোড়লরা ও অন্যান্য মুসলিম রাষ্ট্র যখন নিশ্চুপ, তখন ইসরাইলের হামলার জবাবে মার্কিন যুদ্ধ জাহাজে হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে ইয়েমেনের প্রতিরোধ বাহিনী। অপরদিকে, মার্কিন বাহিনীও তাদের উপর বোমাবর্ষণের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে।
এদিকে, গাজায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে সরকারের সাথে মতপার্থক্যের কারণে পদত্যাগ করা ইসরাইলি মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির আবারও ফিরে আসছেন নিজ দলে। বেন-গভিরের ফেরা নিয়ে অনেকেই ধারণা করছেন, এই সিদ্ধান্তটি ইসরাইলি সরকারের শক্তি বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। বিশেষ করে গাজার বিষয়ে।
Leave a Reply