রিসেপ তায়েপ এরদোয়ান সরকারের বিরুদ্ধে টানা বিক্ষোভে অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে তুরস্ক। রাজপথে নেমে সরকার পতনের ডাক দিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা। এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এটি সর্ববৃহৎ বিক্ষোভ। দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়তে থাকা এ বিক্ষোভ দমনে অনন্যোপ্যায় হয়ে ব্যাপক ধরপাকড়ের পথ বেছে নিয়েছে পুলিশ। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানাচ্ছে আন্তর্জাতিক মহল।
অন্যদিকে লাগাতার চলতে থাকা এই বিক্ষোভকে সহিংসতা বলে তকমা দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ান। বিক্ষোভকারীরা করুণ পরিণতির পথ বেছে নিচ্ছে বলে হুঁশিয়ারি জানিয়েছেন তিনি।
এরদোগান বলছেন, এই বিক্ষোভের জেরে দেশ খুবই নাজুক সময় পার করছে। বিরোধীরা উদ্দেশ্যমূলকভাবে দেশকে অস্থিতিশীল করতে বিক্ষোভের আড়ালে সহিংসতাকে উস্কানি দিচ্ছে। যারা দেশকে অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে, তাদের বরদাস্ত করা হবে না বলে কঠোর বার্তা দিয়েছেন তিনি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সবাইকে ধৈর্য ধারণ ও কাণ্ডজ্ঞান বিবেচনা করে চলার আহ্বান জানান প্রেসিডেন্ট।
মূলত এরদোয়ানের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দী রিপাবলিকান পিপলস পার্টি-সিএইচপি’র নেতা, ইস্তাম্বুলের মেয়র একরেম ইমামোগলুকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ ও তার মুক্তির দাবিতে শুরু হয় এ বিক্ষোভ। ২০২৮ সালে এরদোয়ানের বিপরীতে সিএইচপি’র প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ইমামোগলু। তাকে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তবে ইমামোগলুর দাবি, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বিরোধী শক্তিকে কোণঠাসা করতেই এ পথ বেছে নিয়েছেন এরদোয়ান। তবে এরদোয়ান এ দাবি নাকচ করে দিয়েছেন।
এরপরও বিক্ষোভ থামছে না। টানা বিক্ষোভের ধারাবাহিকতায় ২৬ মার্চও রাজপথে নামে বিশ্ববিদ্য্যালয় শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে হাজার হাজার মানুষ। এর আগে ২৫ মার্চ ইস্তাম্বুলের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাজপথে মিছিল করে। এসময় সরকার পতনের দাবিতে স্লোগান দেয় তারা।
প্রধান বিরোধী দল সিএইচপিও এদিন ইস্তাম্বুলে সিটি হলের সামনে বিক্ষোভ করে। ২৯ মার্চ বড়সড় বিক্ষোভ মিছিল করার পরিকল্পনা করেছে দলটি।
এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইস্তাম্বুলে বিপুল পরিমাণ দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নিষিদ্ধ করা হয়েছে যে কোনো বিক্ষোভ। এ অবস্থায় পরিচয় আড়াল রাখতে মুখে মাস্ক পরে শিক্ষার্থী মিছিলে অংশ নিচ্ছে শিক্ষার্থী ও বিক্ষোভকারীরা।
চলমান এই বিক্ষোভ দমনে গত কয়েকদিনে শিক্ষার্থী, সাংবাদিক, আইনজীবীসহ দেড় হাজার মানুষকে আটক করেছে এরদোয়ান সরকার। এএফপির সাংবাদিকসহ সাত সাংবাদিককে আটক করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে এই বিক্ষোভ দমনে পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ ও ব্যাপক ধরপাকড়ের নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ, ইউরোপীয় কাউন্সিল ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো। সরকার যেভাবে বিক্ষোভ দমনের চেষ্টা চালাচ্ছে তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রও। ওয়াশিংটনে এক বৈঠকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানকে এতো সংখ্যক মানুষকে আটকের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে মার্কিন স্টেইট সেক্রেটারি মার্কো রুবিও শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমস্যা সমাধানের পরামর্শ দেন। তবে আন্তর্জাতিক মহলের কথা সেভাবে কানে তুলছে না এরদোয়ান সরকার।
Leave a Reply