নানা জাতিগোষ্ঠী-ধর্ম-বর্ণের মিলন মেলায় রূপ নেয় এবারের বর্ষবরণের আনন্দ শোভাযাত্রা। নেচে গেয়ে মেতে ওঠেন সকল বয়সের মানুষ। এবারের বর্ষবরণের শোভাযাত্রায় বাঁধভাঙ্গা উল্লাস ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। শোভাযাত্রার নামকরণে পরিবর্তন এলেও নিজেদের উৎসব নিয়ে আপত্তি ছিলো না কারো। সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, এবারের শোভাযাত্রা রাজনৈতিক নয়। তিনি বলেন, ফ্যাসিস্টের মুখচ্ছবি রাজনীতির কোন অংশ নয়, ফ্যাসিস্ট অপশক্তি।
ঢাক-ঢোল পিটিয়ে গ্রাম্য ঐতিহ্য ছড়িয়ে দিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা থেকে আনন্দ শোভাযাত্রায় অংশ নেয় ২৮টি জাতিগোষ্ঠী। শোভাযাত্রার শুরুতেই উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দেন পিছিয়ে পড়া জাতিগোষ্ঠীর মানুষেরা। এবারের আনন্দ শোভাযাত্রা ছিলো বৈচিত্র্যে ভরপুর। সমতলের উৎসবে অংশ নিতে পেরে খুশি পাহাড়ের বাসিন্দারা।
চারুকলা থেকে সকাল ৯টায় শুরু হয় আনন্দ শোভাযাত্রা। শাহবাগ মোড় ঘুরে টিএসসি, শহীদ মিনার ও দোয়েল চত্বর হয়ে আনন্দ শোভাযাত্রা শেষ হয় চারুকলায় এসে। এবারের বর্ষবরণ শোভাযাত্রায় অংশ নেন নারী ফুটবলার থেকে শুরু করে লালন অনুসারীরা, নৃত্য শিল্পী, ব্যান্ড শিল্পীরা।
মঙ্গল শোভাযাত্রার বদলে এবার নাম দেওয়া হয়েছে ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’। এ নিয়ে নানা তর্ক থাকলেও উৎসবে অংশ নিতে পিছিয়ে ছিলেন না কেউ।
শোভাযাত্রায় মোটিফ হিসেবে স্থান পায় স্বৈরাচারের মুখচ্ছবি। যা বর্ষবরণের একদিন আগে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হলেও একই রূপে আবারো নির্মাণ করে যুক্ত করা হয় শোভাযাত্রায়। জুলাই আন্দোলনের নানা মোটিফ হিসেবে মুগ্ধর পানির বোতল, ৩৬ জুলাই ছিলো এবারের বিশেষত্ব। শোভাযাত্রা থেকে সংহতি জানানো হয় ফিলিস্তিনের নির্যাতিত মানুষদের প্রতি।
শোভাযাত্রা শুরুর আগে সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, ফ্যাসিস্টের মুখচ্ছবি অপশক্তি হিসেবে দেখানো হয়েছে। এখানে কোন রাজনীতি নেই।
Leave a Reply