যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে ওয়াশিংটন ও মস্কোর মধ্যে ‘অনেক অগ্রগতি’ হয়েছে এবং তিনি ধারণা করছেন যে, রাশিয়ার তেল কেনা নিয়ে ভারতের ওপর চাপানো ৫০ শতাংশ শুল্ক হয়তো এই অগ্রগতির সঙ্গে কোনোভাবে সম্পৃক্ত থাকতে পারে।
ট্রাম্প ইউরোপীয় মিত্রদের জানিয়েছেন, তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে আগামী সপ্তাহেই বৈঠক করতে চান, যেন দুই দেশের মধ্যে শান্তি আনা যায়।
এই ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের উদ্যোগ আসে ঠিক সেই সময়, যখন ট্রাম্প ভারতের ওপর দ্বিগুণ শুল্ক চাপিয়ে দেন মোট ৫০ শতাংশ। রাশিয়ার জ্বালানি তেল কেনার ‘শাস্তি’ হিসেবে এটা দেওয়া হয়। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই মস্কোতে পুতিনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভের তিন ঘণ্টার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, “আমরা ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছি। এটা কি ওই (রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র) আলোচনার সঙ্গে সম্পর্কিত? জানি না, কিন্তু আজকের আলোচনা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে।”
তবে তিনি এখনো রাশিয়ার তেল আয়ের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞার ইঙ্গিত রেখে দিয়েছেন।
তিনি ভারতকে অভিযুক্ত করে বলেন, “ভারত কেবল বিশাল পরিমাণে রাশিয়ার তেল কিনছেই না, বরং সেই তেল থেকে তৈরি পণ্য অন্য দেশগুলোকে বিক্রি করছে উচ্চ মুনাফায়। তারা তোয়াক্কা করছে না ইউক্রেনে রুশ যুদ্ধযন্ত্র কতজন মানুষকে হত্যা করছে।”
একজন সাংবাদিক জানতে চাইলে, যদি রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধবিরতির চুক্তি হয় তাহলে ভারতের ওপর ২৫ শতাংশের শাস্তিমূলক শুল্ক তুলে নেওয়া হবে কি না, ট্রাম্প বলেন, “আমরা পরে সেটা নির্ধারণ করব। আপাতত, তারা ৫০ শতাংশ শুল্ক দিচ্ছে।”
ট্রাম্প বলেন, এই ‘মাধ্যমিক শুল্ক’ মূলত রাশিয়ার আয়ের পথ বন্ধ করতে আরোপ করা হয়েছে এবং এটি রাশিয়ান তেল কিনছে এমন দেশগুলোর ওপর প্রযোজ্য—তবে এখন পর্যন্ত কেবল ভারতই এই শাস্তি পেয়েছে।
তিনি বলেন, “ভারত রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল ক্রেতা, চীনের খুব কাছাকাছি অবস্থানে।”
ভারতকে একা নিশানা করার কারণ জানতে চাইলে, ট্রাম্প বলেন, চীনও হয়তো পরবর্তীতে এই শাস্তির আওতায় আসতে পারে।
তিনি বলেন, “হতে পারে। এখনো ঠিক বলা যাচ্ছে না। কিন্তু আমি চাইলে দিতে পারি। ভারতের ক্ষেত্রে দিয়েছি। সম্ভবত আরও কয়েকটি দেশের ক্ষেত্রেও দিতে যাচ্ছি। এর একটি হতে পারে চীন।”
ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র নতুন নিষেধাজ্ঞা বিবেচনা করছে, যা রাশিয়ার গোপন তেল ট্যাংকার বহর এবং তা পরিচালনায় যুক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করবে। এসব পদক্ষেপের উদ্দেশ্য, ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য রাশিয়ার অর্থ জোগান বন্ধ করা।
ট্রাম্প গত সপ্তাহেই ভারতের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক দিয়েছিলেন এবং বুধবার সকালে রাশান তেল কেনার কারণে আরও ২৫ শতাংশ বাড়ান, যা মোট ৫০ শতাংশ।
ভারত ট্রাম্পের এই নতুন শুল্ককে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ আখ্যা দিয়ে বলেছে, “জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, “আমরা অত্যন্ত দুঃখজনক মনে করি যে, যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি বিষয়ে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করছে—যেখানে অনেক দেশই একই কাজ করছে, নিজেদের জাতীয় স্বার্থে।”
ভারত আরও জানিয়েছে, “আমাদের জ্বালানি আমদানি বাজারের পরিস্থিতি ও দামের ওপর নির্ভর করে এবং ১.৪ বিলিয়ন মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
এই তেল-সম্পর্কিত শুল্ক কার্যকর হবে আগামী ২১ দিনের মধ্যে।
সূত্র: এনডিটিভি
Leave a Reply