সংস্কার ও বিচারের আগে নির্বাচন হলে পুরোনো সমস্যা ফিরে আসবে বলে মনে করেন প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস। ফেব্রুয়ারিতে সাধারণ নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ব্যাপক সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বুধবার (১৩ই আগস্ট) মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে সংবাদমাধ্যম সিএনএ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে সংস্কার ও ক্ষমতাচ্যুত হাসিনা সরকারের অনিয়ম, দুর্নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচারকেই প্রাধান্য দিচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার।
একটি গ্রহণযোগ্য, পরিচ্ছন্ন ও উৎসবমুখর নির্বাচন নিশ্চিত করা তার কাজ বলেও ড. ইউনূস জানান। ৮৫ বছর বয়সী এই অর্থনীতিবিদ বলেন, নির্বাচনের পর সরকারে থাকার কোনো পরিকল্পনা তার নেই।
ড. ইউনূস বলেন, ‘আমরা নিজেদের জন্য যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি, তার প্রায় কাছাকাছি পৌঁছে গেছি। আগের রাজনৈতিক ব্যবস্থাটি কারচুপি, অপব্যবহার এবং ক্ষমতার অপপ্রয়োগে জর্জরিত ছিল, তাই অনেক কিছু সংস্কারের প্রয়োজন ছিল।’
ভারত থেকে শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে ড. ইউনূস বলেন, ‘আমরা ভারতকে বলেছি, আপনারা তাকে রাখতে পারেন, আমাদের বিচার চলতে থাকবে। কিন্তু তাকে যেন বাংলাদেশ অস্থিতিশীল করার সুযোগ না দেওয়া হয়।’ তিনি আরও জানান, শেখ হাসিনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমর্থকদের উসকানি দিলেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানিয়েছেন যে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।
আঞ্চলিক কূটনীতিতে পরিবর্তন আসা প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ এখন কোনো নির্দিষ্ট দেশের দিকে না ঝুঁকে অর্থনৈতিক স্বার্থকে গুরুত্ব দিচ্ছে। চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরির পাশাপাশি ভারতের সঙ্গেও ভালো সম্পর্ক রাখতে চায় বাংলাদেশ। তিনি বলেন, “এটি বিনিয়োগের সুযোগের বিষয়, চীনকে বিশেষ কোনো সুবিধা দেওয়া নয়। এই সুযোগ ভারতসহ সবার জন্য উন্মুক্ত। এটি ব্যবসার ক্ষেত্রে একটি ন্যায্য প্রতিযোগিতা।”
রাজনীতিতে নিজের আগমন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও কথা বলেন ড. ইউনূস। তিনি জানান, প্রথমে তিনি এই দায়িত্ব নিতে ইচ্ছুক ছিলেন না। কিন্তু শিক্ষার্থীদের আত্মত্যাগের কথা ভেবে এবং তাদের অনুরোধে তিনি দায়িত্ব গ্রহণে সম্মত হন। ৮৫ বছর বয়সী এই নোবেল বিজয়ী স্পষ্ট করে বলেন, নির্বাচনের পর সরকারে থাকার কোনো পরিকল্পনা তার নেই।
Leave a Reply