বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা বেকার ভাতা নয়, বেকারদের কাজ দেবো। যেন যুবকরা সম্মানের সঙ্গে আয় করতে পারে। তিনি বলেন, আমরা মজলুম মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার রাজনীতি করি। স্বৈরাচার সরকার গায়ের জোরে মসজিদ থেকে মানুষকে বের করে দেয়।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে পলাশবাড়ী এসএম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ১০ দলীয় নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন দুটি গণভোটের নির্বাচন। জুলাই শহীদদের সম্মান দেখাতে ‘হ্যাঁ’ ভোটে সাড়া জাগাতে হবে। অতীতের নির্বাচনে নারী-পুরুষ-তরুণ কেউই ভোট দিতে পারেনি—এবার ‘হ্যাঁ’ ভোটের জোয়ার তুলতে হবে।
এর আগে রংপুর থেকে সড়কপথে এসে পীরগঞ্জে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত শেষে তিনি সভাস্থলে পৌঁছান।
উত্তরাঞ্চলের নদী সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নদী আল্লাহর দান; কিন্তু তিস্তাসহ ব্রহ্মপুত্র-যমুনা—সব নদী আজ মৃতপ্রায়। ৫৪ বছরে নদী শাসনে কোনো উন্নয়ন হয়নি। সরকার গঠন করতে পারলে নদীতে জীবন ফিরিয়ে আনব এবং উত্তরাঞ্চলকে কৃষি-ভিত্তিক রাজধানীতে রূপান্তর করব।’ এসময় তিনি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও নদী পুনরুদ্ধার প্রকল্প নেয়ার ঘোষণা দেন।
বেকারত্ব–কৃষি–বাজার ব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘উত্তরাঞ্চলকে তিলে তিলে শেষ করা হয়েছে। কাজের অভাবে তরুণেরা রাজধানীমুখী। আমরা বেকার ভাতা নয়—কাজ দেব, যাতে যুবকরা সম্মানের সঙ্গে আয় করতে পারে।’
কৃষকের ন্যায্যমূল্য প্রসঙ্গে বলেন, ‘বাংলাদেশ খাদ্যের ভান্ডার, কিন্তু কৃষক দাম পায় না; বাজারে চাঁদাবাজি চলতে থাকে। চাঁদাবাজি নির্মূল ও কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হবে।’
নতুন প্রকল্প ও অবকাঠামোর বিষয়ে তিনি জানান— গাইবান্ধায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে।ইপিজেড বাস্তবায়ন, বালাসী ঘাটে টানেল নির্মাণ ও ফুলছড়ি–সাঘাটাসহ নদী শাসন কার্যক্রম নেওয়া হবে।
বক্তব্যের সময় গাইবান্ধার পাঁচ আসনের ইনসাফ (দাঁড়িপাল্লা) প্রতীকের প্রার্থীদের পরিচিত করিয়ে প্রতীক হস্তান্তর করেন আমীর-এ-জামায়াত। জনসভায় সভাপতিত্ব করেন গাইবান্ধা-৩ আসনের মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা নজরুল ইসলাম লেবু। কেন্দ্রীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।
Leave a Reply