সাদ্দাম হোসাইন, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াসিংটন থেকে
চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি কিছুটা পিছিয়ে পড়বে। এ বছরে মোট দেশজ উৎপাদনে প্রবৃদ্ধির হার হতে পারে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ। এমন পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল-আইএমএফ। আগামী অর্থবছরে এই জিডিপি প্রবৃদ্ধি আরও কমে ৪ দশমিক ৩ শতাংশ হতে পারে বলে মনে করছে সংস্থাটি।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের চলমান বসন্তকালীন সভা উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ বা ‘বিশ্ব অর্থনৈতিক পূর্বাভাস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির এই পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান চরম উত্তজনা এবং হরমোজ প্রণালিতে নৌ-অবরোধের প্রভাবে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চলতি বছর বিশ্ব অর্থনীতি ৩ দশমিক ১ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেতে পারে, যা গত জানুয়ারিতে দেওয়া ৩ দশমিক ৩ শতাংশ পূর্বাভাসের চেয়ে কম।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তেলের বাজারে অস্থিরতা এবং হরমোজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পণ্য সরবরাহ ব্যাহত হওয়াকেই এই ধীরগতির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আইএমএফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ৪ শতাংশ, যা থেকে চলতি বছরের পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে।
এর আগে গত অক্টোবর মাসে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সভায় প্রকাশিত আউটলুকে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ছিল ৪ দশমিক ৯ শতাংশ। ইরান যুদ্ধের কারণে সংকটে পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতি। তাই বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়েছে আইএমএফ।
ইরান যুদ্ধে কারণে বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাসও বাড়িয়েছে আইএমএফ। সংস্থাটি বলছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতির হার ৯ দশমিক ২ শতাংশ হতে পারে। গত অক্টোবর মাসে আইএমএফ বলেছিল, চলতি অর্থবছরে ৮ দশমিক ৭ শতাংশ হবে।
Leave a Reply