আর কয়েকঘন্টা পর নজিরবিহীন নির্বাচনের স্বাক্ষী হতে যাচ্ছে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ। এবারই প্রথম মাত্র দুই দফায়, এক সপ্তাহের মধ্যে ভোট হয়ে স্বল্প সময়ে ফলাফল ঘোষণার প্রস্তুতি চলছে। ২৯৪ আসনের মধ্যে ২৩ এপ্রিল ১৫২টি আর ২৯ এপ্রিল ১৪২টি আসনে ভোট হবে। গণনা ও ফল প্রকাশ আগামী ৪ মে। জনমত জরিপ বলছে, লড়াইটা হবে মূলত তৃণমূল কংগ্রেস আর বিজেপির মধ্যে। ব্যালট বন্যায় এবার পশ্চিমবঙ্গে গেরুয়া ঝাণ্ডা উড়াতে প্রায় আদাজল খেয়ে নেমেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিজেপি। টিকবে কী পশ্চিমবঙ্গের প্রথম নারী মুখ্যমন্ত্রী মমতার ক্ষমতার চেয়ার?
রাস্তার পাশের দোকান থেকে ঝালমুড়ি কিনছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রাজনীতির মাঠের হেভিওয়েটরা জনগণের কাতারে মিশে ভোটার টানার এই কৌশলই বলে দেয়-নির্বাচনের আর দেরি নেই। স্বল্প পূঁজিতে লাভের সর্বোচ্চটা তুলে নিতে পুরানো এই কৌশল আর ছড়বেন কেন মোদী। তাই তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শক্ত দূর্গ পশ্চিমবঙ্গ দখলে চেষ্টার কমতি রাখতে নারাজ মোদির ভারতীয় জনতা পার্টি-বিজেপি। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমুলের একাধিক নেতাকে দলে টেনে বিজেপি তোলপাড় ফেললেও সরকার গঠনের ইচ্ছা কল্পনা থেকে আর বাস্তবে ধরা দেয়নি।
সেবার তৃণমূল কংগ্রেস ২১৫টি আর বিজেপি পেয়েছিল ৭৭টি আসন। যেখানে সরকার গঠনে লাগতো ন্যূনতম ১৪৮টি আসন। ২০১১ সালে রাজ্যটির ৩৪ বছরের শাসক বামফ্রন্টকে সরিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। সেই থেকে দলটি ক্ষমতায়। এবার পশ্চিমবঙ্গ সফরে মোদির কণ্ঠেও ছিলো এই আক্ষেপ। ভোট বন্যায় মমতার সরকারকে বিদায় দিতে ভোটারদের সুদৃষ্টি চেয়েছেন মোদি।
পশ্চিমবঙ্গের আয়রণ লেডি তৃণমূল নেত্রী মমতার কণ্ঠে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে কারসাজির অভিযোগ। সরকারি সুযোগ-সুবিধার অপব্যবহার করে ভোটের মাঠে প্রভাব বিস্তারের আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্রও জমা দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনে। মমতার দাবি, অপতথ্যের ফুলঝুরিতে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বিজেপি। দিল্লির অত্যাচারের জবাব ব্যালটে দিতে বলেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা।
শেষ মুহূর্তের জনমত জরিপ ক্ষমতাসীন তৃণমূলের দিকে হেলে থাকলেও বিজেপির ভোট বাড়ার ইঙ্গিত খুব স্পষ্ট। বেশিরভাগ জরিপেই ২৯৪ আসনের মধ্যে তৃণমূলকে সরকার গঠনের পথে এগিয়ে রাখলেও হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস দিয়েছে কোনো কোনো জরিপ সংস্থা। আর ১৯২ আসনে বিজেপির জয়ের আভাস দিয়ে সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র দেখিয়েছে ইন্ডিয়া টিভি।
সমালোচকদের অভিযোগ পশ্চিমবঙ্গে এবার মুসলিম কার্ড আর বহিরাগত কার্ড খেলে ফায়দা তুলতে চাইছে বিজেপি। এরইমধ্যে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকায় কারসাজির অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। কমিশনের স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন-এসআইআর প্রক্রিয়ায় ৯ এপ্রিল পর্যন্ত বাদ পড়েছেন ৯১ লাখের মতো ভোটার। এতে ২১ এপ্রিলের আগ পর্যন্ত ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৬০ লাখ ৭৭ হাজার ১৭১ জনে। বলা হচ্ছে, মৃত্যু, ঠিকানা স্থানান্তর, ভুয়া ভোটারসহ বিভিন্ন কারণে নামগুলো বাদ পড়েছে। যদিও কারো কারো দাবি, প্রয়োজনীয় নথি থাকার পরও বাদ পড়েছে তাদের নাম। এই ভোটারের বেশিরভাগই মুসলিম আর মতুয়া সম্প্রদায়ের।
ভোটার তালিকা সংশোধনীতে এতো আলোচনা; এতো উদ্বেগ কেন? বিজেপিরই বা কী লাভ এতে? সমালোচকদের আশঙ্কা, ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর করে নির্বাচনী ফসল ঘরে তোলার ছক কষেছে বিজেপি। এতে প্রভাব পড়বে মূলত গতবারের বিধানসভা নির্বাচনে যেসব কেন্দ্রে বিজয়ী তৃণমূলের সাথে বিজেপির ভোটের ব্যাবধান ছিলো খুব সামান্য। তাই এবার টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা মমতার তৃণমূল সরকারকে কুপোকাত করার স্বপ্ন দেখতেই পারে মোদির বিজেপি।
Leave a Reply