সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে হাঁটছে বাংলাদেশ। আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন কোনো সরকারি টেন্ডার কাগজে-কলমে বা অফলাইন পদ্ধতিতে আহ্বান করা যাবে না। এর ফলে দেশের সরকারি ক্রয় কার্যক্রম পুরোপুরি ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট (ই-জিপি) ব্যবস্থার আওতায় চলে আসবে।
বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ) জানিয়েছে, সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও প্রতিযোগিতা বাড়াতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ১ জুলাইয়ের আগে যেসব দরপত্র ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে শুরু হয়েছে, সেগুলো পুরোনো নিয়মে শেষ করা যাবে। তবে নতুন কোনো অফলাইন টেন্ডার অনুমোদন পাবে না।
সরকারি ক্রয় দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। জাতীয় বাজেটের প্রায় ৪৫ শতাংশ এবং এডিপি ব্যয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশ এই খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তাই ক্রয় ব্যবস্থাকে আধুনিক ও দুর্নীতিমুক্ত করতে সরকার ধারাবাহিক সংস্কার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
বিপিপিএর তথ্য অনুযায়ী, ই-জিপির ইতিবাচক প্রভাব ইতোমধ্যে দৃশ্যমান। আগে প্রতি দরপত্রে গড়ে ২ দশমিক ২ জন দরদাতা অংশ নিলেও বর্তমানে তা বেড়ে ৮ দশমিক ৪ জনে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে ই-জিপিতে নিবন্ধনের হারও কয়েক গুণ বেড়েছে। নারী উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
নতুন বিধিমালার আওতায় সব সরকারি ক্রয়ে ই-জিপি বাধ্যতামূলক করা, প্রকৃত মালিকানার তথ্য প্রকাশ, টেকসই ক্রয়নীতি এবং নারী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ সুযোগ রাখা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শতভাগ ডিজিটাল ক্রয় ব্যবস্থায় রূপান্তরের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতা ও দক্ষতার নতুন মানদণ্ড স্থাপন করতে যাচ্ছে।
Leave a Reply