ফিলিস্তিনের হামাস যোদ্ধাদের হাতে আটক ইসরাইলির জিম্মির মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত পানি, বিদ্যুৎ, জ্বালানি সরবরাহ করা হবে না বলে জানিয়েছে ইসরাইল সরকার। টানা ষষ্ঠদিনের মতো ইসরাইলিদের বর্বর হামলায় নিহত ফিলিস্তিনিদের সংখ্যা বেড়ে ১৩শ’ ছাড়িয়ে গেছে। অপরদিকে, ইসরাইলি ভূখন্ডে হামাসের হামলায় এ পর্যন্ত ১৩শ’ ইসরাইলির মৃত্যু হয়েছে। এদিকে, ইসরাইল সফরে গিয়ে তাদের প্রতি সমর্থনের কথা আবারো জানালেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এন্টনি ব্লিনকেন।
একের পর এক লাশ আনা হচ্ছে দাফনের জন্যে। কিন্তু চারদিকে ধ্বংসস্তুপ। কোথায় দাফন হবে এতো লাশ? এ যেন মৃত্যুর পরও রেহাই নেই।
পুরো বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনের গাজায় ৬ষ্ঠ দিনের মতো চলছে ইসরাইলি নৃশংসতা। ধ্বংসস্তুপ থেকে বেরিয়ে আসছে একের পর এক মৃতদেহ। ইসরাইলি হামলায় যে কোন সময় চলে যেতে পারে নিজের প্রাণটুকু। তবে সেদিকে পরোয়া নেই এই ফিলিস্তিনিদের। প্রিয় স্বজনদের প্রাণ রক্ষায় ছুটছে তারা।
বর্বর ইসরাইলি হামলায় কিছু কিছু এলাকা এমনভাবে মাটির সাথে মিশে গেছে যে, সেই মৃত্যুপুরী থেকে মৃতদেহ খুঁজে বের করাও কঠিন হয়ে পড়ছে।
সৌভাগ্যক্রমে যারা হামলা থেকে বেঁচে আছে, তাদের নেই খাবার, নেই পানি। বিদ্যুৎ, জ্বালানি আর চিকিৎসার অভাবেও মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে তারা। চরম শোচনীয় মানবিক পরিস্থিতি। কিন্তু তারপরও অবরুদ্ধ এই মৃত্যুপুরী থেকে পালানোর কোনো উপায় নেই অসহায়, নিরীহ ও নিরস্ত্র ফিলিস্তিনীদের। ইসরাইলি বোমা হামলায় ধ্বংস হয়ে গেছে মিশরের সাথে একমাত্র সীমান্তটিও। অপেক্ষা তাই মৃত্যুর।
ফিলিস্তিনের হামাস যোদ্ধাদের হাতে আটক অন্তত দেড়শো ইসরাইলির জিম্মির মুক্তি না দেয়া পর্যন্ত বিদ্যুৎ, জ্বালানিসহ কোন মানবিক সাহায্য গাজায় ঢুকতে দেয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ইসরাইল সরকার।
কিন্তু ইসরাইলি এই হত্যাযজ্ঞের শেষ কোথায়? কোথায় গিয়ে থামবে ইসরাইলিদের এই বর্বরতা, জানা নেই কারো। এমনকি দখলদার ইসরাইলিদের থামাতে নেই কোনো আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টাও। যাও আসছে তা কেবল সমালোচনা আর নিন্দাতেই সীমাবদ্ধ।
তবে গাজাকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে বরাবরে মতোই মিত্র ইসরাইলের পাশে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই যুদ্ধের মধ্যেই রীতিমতো তেলআবিব গিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবারো জানালেন, আত্মরক্ষার অধিকার আছে ইসরাইলের।
তবে গাজার নিরীহ, অসহায় অধিবাসীদের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে কিনা, সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
Leave a Reply