যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতের মধ্যেই ড্রোন উৎপাদন তিনগুণ বাড়ানোর দাবি করেছে ইরান। দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী সাইয়্যেদ মাজিদ ইবনে রেজা বলেছেন, আধুনিক প্রযুক্তিতে দীর্ঘদিনের বিনিয়োগের ফলেই অল্প সময়ে এই সক্ষমতা অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার দাবি, ভবিষ্যতে যেকোনো সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় ইরান এখন আগের তুলনায় আরও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক যুদ্ধ ইরানের প্রতিরক্ষা কৌশলে প্রযুক্তিনির্ভর বিনিয়োগের কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, শুধু প্রযুক্তিই নয়, ড্রোন উৎপাদন দ্রুত বাড়ানোর পেছনে রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও উৎপাদন কাঠামোর পরিবর্তন।
ইরানের বহুল ব্যবহৃত শাহেদ সিরিজের অনেক ড্রোন তুলনামূলকভাবে সহজ নকশায় তৈরি। এসব ড্রোনে ব্যয়বহুল জেট ইঞ্জিন বা জটিল সেন্সরের পরিবর্তে কম খরচের ইঞ্জিন, ফাইবারগ্লাস কাঠামো এবং সহজলভ্য বাণিজ্যিক যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা হয়। ফলে কম সময় ও কম ব্যয়ে বিপুলসংখ্যক ড্রোন উৎপাদন সম্ভব হয়।
এ ছাড়া একটি বড় কারখানার ওপর নির্ভর না করে বিভিন্ন ছোট কারখানা ও কর্মশালায় যন্ত্রাংশ তৈরি করে পরে সেগুলো একত্রে সংযোজনের ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে তেহরান। এতে কোনো একটি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পুরো উৎপাদন ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায় না।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের অনেক ড্রোন একমুখী আক্রমণের জন্য তৈরি হওয়ায় দীর্ঘস্থায়ী ব্যবহারের বদলে দ্রুত ও ব্যাপক উৎপাদনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটি নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি বিকল্প যন্ত্রাংশ সংগ্রহ ও দেশীয় প্রযুক্তি উন্নয়নের সক্ষমতাও গড়ে তুলেছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের ধারণা, কম খরচের বিপুলসংখ্যক ড্রোন একযোগে ব্যবহার করলে প্রতিপক্ষের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর বড় চাপ তৈরি হতে পারে। কারণ এসব ড্রোন প্রতিহত করতে তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হয়।
Leave a Reply