চোখে ব্যান্ডেজ পরে বক্তব্য দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। সোমবার (৩ আগস্ট) রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে ‘শহীদ পরিবার ও আহতদের কণ্ঠে—জনতার ১ দফা’ শীর্ষক আলোচনায় সভায় তাকে চোখে ব্যান্ডেজ বেঁধে বক্তব্য দিতে দেখা যায়।
তবে কেন তিনি চোখে ব্যান্ডেজ নিয়েছেন, তা জানতে আগ্রহী অনেকেই। জানা গেছে, বক্তব্য দেওয়ার জন্য নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নাম ঘোষণার পরেই তিনি পর্দার আড়ালে চলে যান। প্রায় ১ মিনিট পরে তিনি বক্তব্য দেওয়ায় স্থানে আসলে দেখা যায় তার চোখে ব্যান্ডেজ।
মূলত হবিগঞ্জে বিএনপি ও ছাত্রদল নেতাকর্মীদের হামলায় ছাত্রশক্তি নেতা আলিফের চোখ হারানোর ঘটনার প্রতিবাদ জানানোর জন্যই এই ব্যান্ডেজ বেঁধে বক্তব্য দিয়েছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
পরে বক্তব্য দিতে গিয়ে পাটওয়ারী বলেন, এখানে লেখা আছে, আলিফের চোখ ফিরিয়ে দিন, ফিরিয়ে দিতে পারবে? কোথা থেকে দিবে, নিজেরই তো চোখ নাই। চোখ থাকলে কী আলিফের সেই কান্নাটা দেখতো না। আলিফের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতো না?
এদিকে এই ঘটনা নিয়ে পাটওয়ারী নিজের ফেসবুক পেইজে লিখেছেন, একটি চোখ হারায়নি শুধু আলিফ, প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে আমাদের বিবেক। হবিগঞ্জে এনসিপির জুলাই পদযাত্রায় হামলায় ছাত্রশক্তির নেতা আলিফ চৌধুরী তার একটি চোখের দৃষ্টি হারিয়েছেন। এই হামলায় বিএনপি ও তাদের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা জড়িত ছিলেন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও এ অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছে।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজের চোখে প্রতীকী ব্যান্ডেজ ধারণ করে সেই ক্ষতকে সবার সামনে তুলে ধরেছেন। এটি শুধু আলিফের নয়, ন্যায়বিচারের দাবিতে দাঁড়ানো প্রতিটি মানুষের প্রতিবাদের প্রতীক। হবিগঞ্জে হামলার ঘটনায় যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, তাদের অনেকেই অল্প সময়ের মধ্যেই জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। এই পরিস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই অনেকের মনে প্রশ্ন তুলছে- তাহলে আইনের শাসন কোথায়?
অপরাধের বিচার কোথায়?
একজন তরুণ একটি চোখ হারানোর পরও যদি ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা না পান, তবে সাধারণ মানুষ কার কাছে আশ্রয় চাইবে? আলিফের চোখের আলো আর ফিরবে না, কিন্তু বিচার প্রতিষ্ঠা হোক।
উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন আগে হবিগঞ্জে এনসিপির কর্মসূচিতে ছাত্রদলের হামলায় কলেজপড়ুয়া আলিফ তার একটি চোখে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে দৃষ্টিশক্তি হারান। পরে এ ঘটনায় এনসিপি নেতৃবৃন্দ কয়েকজনের নামে মামলাও করেছে।
Leave a Reply