গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর টানা গোলাবর্ষণের মধ্যেই একটি সমঝোতা চুক্তির কাছাকাছি রয়েছে বলে দাবি করেছেন হামাস প্রধান ইসমাইল হানিয়া। এই প্রথমবারের মতো হামাসের সঙ্গে সমঝোতায় যেতে রাজি হয়েছে ইসরায়েল। মঙ্গলবার (২১ নভেম্বর) কাতারে বার্তাসংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হানিয়া বলেন, ‘আমরা (ইসরায়েলের সঙ্গে) একটি সমঝোতা চুক্তির কাছাকাছি রয়েছি। কাতারের মাধ্যমে আমরা এই চুক্তির প্রস্তাব পেয়েছি এবং তাতে সম্মতিও দিয়েছি।’
সম্ভাব্য এই সমঝোতা চুক্তিতে কী কী শর্ত রয়েছে তা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু বলেননি হানিয়া; তবে হামাসের হাতে থাকা জিম্মিদের মুক্তির বিনিময়ে ইসরায়েলের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি থাকা হামাস নেতাকর্মীদের ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারটি শীর্ষে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আগের দিন সোমবার (২০ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে ইসরায়েলের টেলিভিশন চ্যানেল কান জানিয়েছিলো, গাজায় হামাসের হাতে থাকা জিম্মিদের মুক্ত করতে সমঝোতায় পৌঁছাতে চায় ইসরায়েল। এই সমঝোতার শর্ত— যদি হামাস জিম্মিদের মুক্তি দেয়, তাহলে ইসরায়েলের বিভিন্ন কারাগারে থাকা হামাস নেতা-কর্মীদের ছেড়ে দেওয়া হবে।
এর আগে একই দিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন কিরবি জানিয়েছিলেন, গাজায় ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্ত করতে যুক্তরাষ্ট্র তার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। দু’পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতার একটি পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। আমরা আশা করছি এটি হবে। তবে এখনও অনেক কাজ বাকি রয়ে গেছে,’ হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন কিরবি।
গত ৭ অক্টোবর ভোরে ইসরায়েলে অতর্কিত হামলা চালায় গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী হামাসের যোদ্ধারা। উপত্যকার উত্তরাঞ্চলীয় ইরেজ সীমান্ত বেড়া ভেঙে ইসরায়েলে প্রবেশ করে নির্বিচারে সামরিক-বেসামরিক লোকজনকে হত্যা করে তারা। সেই সঙ্গে জিম্মি হিসেবে গাজায় ধরে নিয়ে যায় ২৪২ জনকে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, এই জিম্মিদের মধ্যে ইসরায়েলিদের সংখ্যা ১০৪ জন। বাকি ১৩৮ জনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, থাইল্যান্ড, জার্মানি, ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা, রাশিয়া ও ইউক্রেনের নাগরিকরা রয়েছেন। সূত্র: এএফপি, রয়টার্স, আনাদোলু
Leave a Reply