২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা আজ। উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা নয়, আয় বুঝে ব্যয় করার পরিকল্পিত বাজেটের দিকে এবার নজর দিচ্ছে সরকার। আর তাই সংকট কাটিয়ে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার লক্ষ্যে এবার অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী পেশ করতে যাচ্ছেন সাত লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকার বাজেট। আগের বছরগুলোতে বাজেট ১২ থেকে ১৪ শতাংশ বড় করা হলেও এবার বাড়ছে মাত্র ৪ শতাংশ।
সরকার তথা রাষ্ট্রের আয়-ব্যয়ের দলিল-বাজেট। ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের বাজেট ঘোষণা করা হবে বৃহস্পতিবার। আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় সামলানোর অভিজ্ঞতা থাকলেও এই প্রথমবারের মত অর্থমন্ত্রী হিসেবে সংসদে বাজেট পেশ করতে যাচ্ছেন আবুল হাসান মাহমুদ আলী।
জানা গেছে, প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা। আগের বাজেটের তুলনায় ৩৫ হাজার ২১৫ কোটি টাকা বেশি।
একদিকে ডলার সংকট, অন্যদিকে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ, আর তাই নতুন করে চাপ নিতে রাজি নন অর্থমন্ত্রী। সে কারণে মেগাপ্রকল্পের খরচ এড়িয়ে শেষ হতে যাওয়া প্রকল্প বাস্তবায়নের দিকে নজর দিতে পারে সরকার, মনে করেন অর্থনীতিবিদরা।
বিদায়ী বাজেটে ঘাটতি ২ লাখ ৬১ হাজার ৭৫৮ কোটি টাকা হলেও এবার সেই ঘাটতি ২ লাখ ৫১ হাজার ৬০০ কোটিতে বেঁধে রাখার ঘোষণা আসতে পারে। ঘাটতি মেটাতে বৈদেশিক উৎস হতে ৯০ হাজার ৭০০ কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস হতে ১ লাখ ৬০ হাজার ৯০০ কোটি টাকা ধার করা হতে পারে।
সরকার এবার রপ্তানি ও রেমিট্যান্সে প্রণোদনা প্রত্যাহারের চিন্তা করলেও উদ্যোক্তামুখী বাজেট প্রত্যাশায় ব্যবসায়ীরা।
আগামী অর্থ বছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ৫ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকা। কর বাড়তে পারে তামাকজাত পণ্য, টিভি-ফ্রিজ বা এসির মতো আমদানি পণ্যে। বাড়তে পারে হাটবাজারের ইজারা। উড়ালসড়ক বা এক্সপ্রেসওয়ের মতো বিভিন্ন সেতু পারাপারের টোল।
এ পর্যন্ত দেশে ১৩ জন অর্থমন্ত্রী দিয়েছেন মোট ৫২টি বাজেট। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১২ বার করে দিয়েছেন বিএনপির প্রয়াত এম সাইফূর রহমান ও আওয়ামী লীগের আবুল মাল আবদুল মুহিত।
১৯৭২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদের ঘোষিত বাজেটের আকার ছিল ৭৫২ কোটি যা ১ হাজার ৫৯ গুণ বেড়ে এবার হচ্ছে ৭ লাখ ৯৬ হাজার কোটি টাকা।
Leave a Reply