গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশ ত্যাগের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভারতের কয়েকটি সংবাদমাধ্যম নানা ধরনের ভুল সংবাদ প্রকাশ করে আসছে। তারা প্রচার করছে, বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যরা ‘ইসলামপন্থী শক্তি’র লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছেন।
দ্য টাইমস গ্রুপের মালিকানাধীন মিরর নাউয়ের ইউটিউব চ্যানেলে ‘অ্যাটাক অন হিন্দু ইন বাংলাদেশ? ম্যাস মার্ডারস, কিলিংস বাই মব’ শিরোনামে একটি ভিডিও দেখানো হয়। চারটি বাড়িতে সহিংসতা ও অগ্নিসংযোগের ফুটেজ দেখানো হয়েছে সেখানে। যার মধ্যে দুটি মুসলিমদের মালিকানাধীন বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। ভিডিওটির শিরোনামটি স্পষ্টতই বিভ্রান্তিকর, কারণ এ ঘটনায় কোনো গণহত্যার খবর পাওয়া যায়নি। ভিডিওটিতে অসমর্থিত দাবিও করা হয়েছে, যেমন ‘জনতার হাতে ২৪ জনকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়েছে’ এবং ‘আক্রমণের কেন্দ্রে সংখ্যালঘুরা’।
আল-জাজিরা যাচাইকৃত তথ্য বলছে, সোমবার (৫ আগস্ট) হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে মাত্র দু’জন হিন্দু নিহত হয়েছেন –একজন পুলিশ কর্মকর্তা এবং একজন হাসিনার আওয়ামী লীগের কর্মী।
বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষের মধ্যে হিন্দুরা প্রায় ৮ শতাংশ এবং ঐতিহ্যগতভাবে তারা আওয়ামী লীগের শক্তিশালী সমর্থক। বাংলাদেশে বিরোধী দলগুলোর তুলনায় আওয়ামী লীগকে ধর্মনিরপেক্ষ দল বলে বিবেচনা করা হয়। যদিও তাদের জোটে ইসলামপন্থী দলও রয়েছে।
নরেন্দ্র মোদির ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জ্যেষ্ঠ নেতা শুভেন্দু অধিকারীকে উদ্ধৃত করে টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘হিন্দুদের ওপর হামলার অনেক সংবাদ প্রতিবেদনে অদ্ভূত দাবি করা হয়েছে, যেমন ‘এক কোটিরও বেশি শরণার্থী শিগগিরই পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করতে পারে’।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশে শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটিয়েছে’।
ভারতীয় গণমাধ্যমের এসব প্রতিবেদন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত পোস্টগুলো বাংলাদেশের ঘটনাপ্রবাহের বাস্তবতার সঙ্গে বিপরীত। স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের সঙ্গে এগুলো সাংঘর্ষিক।
বাংলাদেশের স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সোমবার রাত থেকে দেশটির ৬৪টি জেলার মধ্যে ২০টি হিন্দু পরিবারের বেশ কয়েকটি বাড়িতে হামলা ও লুটপাট চালানো হয়েছে। আল-জাজিরা এসব জেলার কয়েকটি সূত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পেরেছে, হিন্দু বাড়িঘরের ওপর হামলা ধর্মীয় পরিচয় থেকে নয়, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কারণে হয়েছে।
Leave a Reply