ভারতের কঠোর সমালোচনা করে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশ প্রসঙ্গে একেরপর এক ন্যাক্কারজনক ভূমিকায় অবতীর্ণ হচ্ছে ভারত। অভিন্ন নদীগুলোর পানি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে প্রতিবেশি দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত।
গতকাল (২২আগস্ট) কুমিল্লা পূর্ব সাংগঠনিক জেলা শাখার উদ্যোগে বন্যাকবলিত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। কুমিল্লা চৌদ্দগ্রামের বন্যাকবলিত এলাকার আশ্রয় কেন্দ্র পরিদর্শন ও দুর্গতদের মাঝে খাবার বিতরণ করেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম।
এসময় চৌদ্দগ্রাম বালিকা বিদ্যালয় আশ্রয় কেন্দ্র ও উপজেলার বাতিসা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থিত মানুষের মাঝে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, খাবার স্যালাইন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করেন।
ভারতের ত্রিপুরার গোমতি নদীর উজানে ডাম্বুর বাঁধ খুলে দেওয়ায় পাহাড়ি ঢল ও কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে দেশের বেশ কয়েকটি জেলায় দেখা দিয়েছে ভয়াবহ বন্যা। ফেনী, লহ্মীপুর, নোয়াখালী, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি জেলায় লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বিদ্যুৎ, নেই মোবাইল নেটওয়ার্ক। ভেসে গেছে ঘরবাড়ি ও গবাদিপশু। এখন পর্যন্ত ৮ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বন্যাদুর্গতদের উদ্ধারে কাজ করছে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি কোস্টগার্ড, বিজিবি, ফায়ার সার্ভিস ও ইসলামী ছাত্রশিবিরসহ অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা। তবে বন্যার তীব্রতা ভয়াবহ হওয়ায় দেখা দিয়েছে সংকট। আর এই সংকটকালে দেশবাসীকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ প্রসঙ্গে একেরপর এক ন্যাক্কারজনক ভূমিকায় অবতীর্ণ হচ্ছে ভারত। অভিন্ন নদীগুলোর পানি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে প্রতিবেশি দেশের স্বার্থ ক্ষুন্ন করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। শুকনো মৌসুমে পানি আটকে রাখা ও ভরা মৌসুমে পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই পানি ছেড়ে দিয়ে বাংলাদেশের মানুষকে বিপদে ফেলা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এর যৌক্তিক মীমাংসা হওয়া উচিৎ। আশা করি সরকার এর কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবে।
শেষে তিনি আশ্রয় কেন্দ্রগুলো ঘুরে ঘুরে দেখেন ও আগত মানুষের খোঁজখবর নেন। এসময় জেলা পূর্বের সভাপতিসহ শিবিরের বিভিন্ন নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
Leave a Reply