দীর্ঘদিন ধরে একের পর এক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ সত্ত্বেও সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের (গবি) রেজিস্ট্রার পদে বহাল ছিলেন এস. তাসাদ্দেক আহমেদ। শিক্ষার্থীরা বহুবার আন্দোলন করলেও তোয়াক্কা করেনি প্রশাসন। তবে সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে তিনি পদত্যাগ করেন। তবে সে পদত্যাগপত্র এখনও গৃহীত হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
জানা যায়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিচার প্রক্রিয়া স্থগিত করায় গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর ২০১ জন কৃষিবিদ প্রতিবাদ জানান। তার মাঝে গবি রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ এস. তাসাদ্দেক আহমেদের নামও ছিল। এরই সূত্র ধরে এবং পূর্বের অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১৪ আগস্ট শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে তিনি পদত্যাগ করেন।
সম্প্রতি অভিযোগ উঠেছে, তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিলেও তা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের অধিকাংশ সদস্যরা তা গ্রহণ করেননি। তথ্যমতে তিনজন সদস্য পদত্যাগপত্র গ্রহণের পক্ষে। তবে বেশিরভাগ সদস্যরা শিক্ষার্থীদের ‘জোরপূর্বক’ পদত্যাগের বিরোধীতা করছেন বলে জানা যায়।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ট্রাস্টি বোর্ডের একজন সদস্য জানান, ট্রাস্টি বোর্ডের মধ্যে দ্বিমত আছে। কয়েকজন পদত্যাগপত্র গ্রহণ করার জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ৫ জন তা গ্রহণ করেনি। এটা সর্বসম্মতিক্রমে হয়নি। কিছু সংখ্যক সদস্যের যুক্তি, ছাত্রদের চাপে পদত্যাগ হতে পারে না। অধিকাংশ গ্রহণ করলে তার পদত্যাগ হবে। যেহেতু অধিকাংশ গ্রহণ করেনি তাই তিনি এখনো অফিশিয়ালি যাননি।
পদত্যাগ নাটকের বিষয়ে আন্দোলনকারী কিছু শিক্ষার্থী জানান, রেজিস্ট্রারের পদত্যাগপত্র যদি আগামীকালের মধ্যে গ্রহণ না করা হয়, তাহলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা রবিবার থেকে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় অচল করে দিবে।
সার্বিক বিষয়ে ট্রাস্টির বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি খুবই অসুস্থ থাকায় কথা বলার পরিস্থিতিতে নেই বলে অসহায়ত্ব প্রকাশ করেন।
প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ১২ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ড তাকে রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগ দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের পরপরই কর্মরত তার বিরুদ্ধে অনেককে চাকরিচ্যুত করে নিজের লোকদের মোটা টাকার বিনিময়ে নিয়োগের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া সনদ জালিয়াতির (ডক্টরেট ডিগ্রি ব্যবহার) বিষয়েও তিনি অভিযুক্ত।
Leave a Reply