পাট, কচুরিপানা, হোগলা পাতা ও খড় দিয়ে তৈরি করা নার্সারি পট, ফ্লোর ম্যাট, প্লেস ম্যাট, বিভিন্ন ধরনের ব্যাগ, ঝুড়ি, টিফিন বক্স, পেট হাউস, টিস্যু বক্স, ফাইল বক্স, ট্রে, ফুল ঝুড়িসহ বিভিন্ন ধরনের পরিবেশবান্ধব পণ্য তৈরি করছেন রাজবাড়ীর একটি কারখানায়। আর তৈরিকৃত এসব পন্য রপ্তানি হচ্ছে ২৬ টি দেশে। ওই কারখানায় প্রায় দুই হাজার শ্রমিক কাজ করছেন। যাদের অধিকাংশই নারী। আর এই কারখানার মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠঠেন নারীরা।
রাজবাড়ীর সদর উপজেলার ভবদিয়া গ্রামের ‘গোল্ডেন জুট প্রোডাক্টস’ নামের ওই কারখানায় কর্মরত বেশিরভাগ শ্রমিক হতদরিদ্র নারী। এক সময় যাদের দিন কেটেছে অর্থকষ্টে। এখানে নিয়োগ পাওয়ার পর তাদের অনেকেরই ভাগ্যের চাকা ঘুরেছে। এখানে কাজ করছেন প্রতিবন্ধী ও বিধবারাও।
এখানে নারীদের পাশাপাশি অনেক পুরুষ শ্রমিকও কাজ করছেন। কেউ পণ্য তৈরি করছে, কেউ তৈরি করা পণ্য সাজিয়ে রাখছেন। আবার কেউ কেউ বিদেশে পাঠাতে পণ্য প্যাকেটজাত করছেন।
সদর উপজেলার হাউলি জয়পুর গ্রামের সালমা আক্তার বলেন, আমার স্বামী দিনমজুর। কোভিডের সময় পারিবারিক অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে যায়। দুই বছর আগে এ মিলে চাকরি নেই। এখন আমার সাংসারিক অবস্থা খুবই ভালো। ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠাতে পারছি। প্রয়োজনীয় জিনিসের বাইরে দুই-একটা শখের জিনিসও কিনতে পারি। অভাব-অনটন এখন আর নেই।
আরেক শ্রমিক ময়না বেগম জানান, এখানে অনেক ধরনের পণ্য তৈরি করা হয়। তার মতো অনেক নারী এখানে কাজ করছেন। এখান থেকে উপার্জিত আয় দিয়ে অনেকেই সংসারের চাহিদা মেটাতে পারছেন।
গোল্ডেন জুট প্রোডাক্টসের ব্যবস্থাপক রফিকুল ইসলাম জানান, ২০০৭ সালে সাভারে প্রতিষ্ঠিত হয় প্রতিষ্ঠানটি। এর কর্ণধার হাকিম আলী সর্দারের নেতৃত্বে আজ এ পর্যায়ে এসেছে তারা।
তিনি বলেন, ২০১৫ সালে আমরা রাজবাড়ীতে মিলটি করার চিন্তা করি। সেই ভাবনা থেকে এক একর জায়গায় এই কারখানাটি চালু করা হয়। আমরা দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাট, হোগলা পাতা, ধানের খর, কচুরিপানা সংগ্রহ করে পন্য তৈরি করি। এসব পণ্য নেদারল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, সৌদি আরব, জাপান, হংকং, মালয়েশিয়া, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যসহ ২৬টি দেশে রপ্তানি করা হয়।
তিনি বলেন, দুইভাবে এই প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকরা কাজ করছেন। কারখানায় এসে ৮০০ জন কাজ করছেন। আর বাড়িতে বসে ঘরের কাজের পাশাপাশি পাটজাত পণ্য তৈরি করছেন প্রায় এক হাজার ২০০ জন।
রাজবাড়ী বিসিক শিল্প নগরীর সহকারী মহাব্যবস্থাপক চয়ন বিশ্বাস বলেন, রাজবাড়ীর এ কারখানায় প্রান্তিক নারীরা কাজ করছেন। এখানে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রাও অর্জন হচ্ছে। আমরা সবসময় উদ্যোক্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। তাদেরকে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে থাকি।
রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক আবু কায়সার খান জানান, গোল্ডেন জুট প্রোডাক্টসের কার্যক্রম খুবই ভালো। আমরা তাদের প্রোমোট করছি। তাদের তৈরি পণ্যও মানসম্মত।
Leave a Reply