মিরপুরের কালশীতে মাদকের কেনাবেচার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক তরুণীকে শ্বাসরোধে হত্যা হত্যার অভিযোগ উঠেছে পল্লবী থানার উপপরিদর্শক জহিরুল ইসলাম ও ফেরদৌসের বিরুদ্ধে। অভিযানে গিয়ে বৈশাখী (১৭) নামে ওই তরুণীকে শ্বাসরোধ ও নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ উঠে। তবে পুলিশ বলছে, হত্যা নয় অভিযান ব্যাহত করতে আত্মহত্যা করেছে ওই তরুণী।
এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে দাবি করে পুলিশ বলছে, অপরাধ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ জনতা এলাকায় টহলরত দুটি পুলিশ ভ্যানে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। কালশীর আদর্শনগর পুলিশ বক্স ও দুটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। পুলিশের মাদক ব্যবসা এবং চাঁদাবাজি ও মামলার হুমকির বিরুদ্ধে সড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ করেন তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশ প্রায়ই অভিযানের নামে কালশী ও বিহারি পল্লিতে মামলার ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায় করছে।স্বজনরা জানান, বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের উদ্ধার করা মাদক বিক্রি করতে অস্বীকার করায় রাতে তাদের মারধর ও নির্যাতন করেন। একপর্যায়ে বৈশাখীকে পাশের রুমে আটকে রেখে নির্যাতন ও শ্বাসরোধে হত্যা করে অভিযুক্ত পল্লবী থানার পুলিশ কর্মকর্তা জহিরসহ দুজন পুলিশের সোর্স। বিবস্ত্র করে নির্যাতন করা হয় বৈশাখীর মা ও বোনকে।
বৈশাখীর মা বলেন, ‘পুলিশের এই দুই সদস্য বিভিন্ন অভিযানে জব্দ হওয়া মাদকদ্রব্য বিক্রির জন্য আমার মেয়েকে চাপ দিতো। আগেও তাদের মাদক বিক্রি করে দিয়েছে। এবার মেয়ে রাজি না হওয়ায় আমাকে মারধর করেছে। মেয়েকে শ্বাসরোধে মেরে ফেলেছে। আমি এর বিচার চাই।’
খবর পেয়ে রাত ১২টার দিকে মিরপুর জোনের উপকমিশনার (ডিসি) জসিম উদ্দিন মোল্লা এবং পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান মিয়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে যান। মোতায়েন করেন অতিরিক্ত পুলিশ ও আনসার সদস্য।
রাত ২টায় সংবাদ সম্মেলনে ডিসি) জসিম উদ্দিন মোল্লা বলেন, হত্যা নয় বরং পুলিশের অভিযান ব্যাহত করতে আত্মহত্যা করে বৈশাখী। বৈশাখী ও তার মা লাভলীর বিরুদ্ধে একাধিক মাদকের মামলা রয়েছে।
Leave a Reply