সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচি শুরু হচ্ছে আজ বৃহষ্পতিবার (১৭ আগস্ট)। মাসে এক থেকে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দিয়ে এ কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে চার শ্রেণির মানুষ। ১৮ থেকে ৫০ বছরের বেসরকারি চাকরিজীবী, কৃষক-শ্রমিকের মতো দিনমজুর, প্রবাসী ও হতদরিদ্ররা প্রাথমিকভাবে অংশ নিতে পারবেন এ কর্মসূচিতে। এতে অন্তর্ভুক্ত হলে ৬০ বছর বয়সের পর আজীবন মাসে পেনশন পাবেন সর্বনিম্ন দেড় হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা। ক্রমান্বয়ে সবাইকে এ সুরক্ষার আওতায় আনা হবে, জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী।
এটি সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচি হলেও আপাতত এ সেবার আওতায় আসছেন বেসরকারি চাকরিজীবী, স্বকর্মে নিয়োজিত কৃষক-শ্রমিক ও রিকশাচালকের মতো দিনমজুর, প্রবাসে কর্মরত বাংলাদেশি ও দরিদ্র মানুষ।
বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নির্ধারিত প্রগতি স্কিমে অন্তর্ভুক্তরা মাসে জমা দিতে পারবেন ২ থেকে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা। ১০ বছর দু’ হাজার করে টাকা চাঁদা দিলে তিনি পেনশন পাবেন ৩০৬০ টাকা। একই হারে ৪২ বছরের চাঁদায় পেনশন আসবে ৬৯ হাজার টাকার। আর ৫ হাজার টাকা করে ৪২ বছরের জমায় পাবেন প্রায় পৌণে দু’ লাখ টাকা। একইভাবে মাসে সর্বনিম্ন ৫ থেকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা বিদেশি মুদ্রায় জমা দিয়ে প্রবাস স্কিমে যুক্ত হতে পারবেন প্রবাসীরা। আর স্বকর্মে নিয়োজিত দিনমজুরদের সুরক্ষা কর্মসূচিতে জমার হার এক থেকে পাঁচ হাজার টাকা। চরম দরিদ্ররা ৫০০ টাকায় যুক্ত হতে পারবে সমতা নামের কর্মসূচিতে। এজন্য সরকারও তাদের জন্য জমা দেবে ৫০০ টাকা।
এ কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত ৬০ বছর বয়সের মানুষকে আজীবন পেনশন দেবে সরকার। কেউ ৬০ বছর বয়সে মারা গেলেও পরবর্তী ১৫ বছর পেনশন পাবেন তার মনোনীত পরিবার। অনলাইনে আবেদন করে যে কেউ যুক্ত হতে পারবে এ পেনশন কর্মসূচিতে। টাকা জমা দেয়া যাবে ব্যাংকের কার্ড, মোবাইল বা ব্যাংকের শাখাতেও।
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মাধ্যমে ভাতা পান এমন মানুষও অংশ নিতে পারবেন পেনশন কর্মসূচিতে। এজন্য আগের সুবিধা বাদ দিতে হবে। বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করার পরই পেনশন কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্তির আবেদন করতে পারবেন নির্ধারিত চার শ্রেণির মানুষ।
Leave a Reply