সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার মাহফিলে হামলা, ভাঙচুর, হুমকি ও প্রাণনাশের চেষ্টার অভিযোগে শাহবাগ থানায় মামলা করা হয়েছিল বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের বিরুদ্ধে। এর মধ্যে ২৪ আইনজীবীর জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। এ মামলায় আসামিরা হাইকোর্টের দেওয়া ১২ সপ্তাহের আগাম জামিনে ছিলেন।
মঙ্গলবার (৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক ফয়সল আতিক বিন কাদেরের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে শুনানি শেষে তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।
জামিনপ্রাপ্তরা হলেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম সজল, শাহ আহমদ বাদল, মাহবুবুর রহমান খান, মাহফুজ বিন ইউসুফ, ব্যারিস্টার এ কে এম এহসানুর রহমান, ব্যারিস্টার মাহাদিন চৌধুরী, জামিউল হক ফয়সাল, কামরুল ইসলাম, ইউনুস আলী রবি, কাজী মোস্তাফিজুর রহমান আহাদ, মির্জা আল মাহমুদ, ব্যারিস্টার মেহেদী হাসান, নূরে আলম সিদ্দীকী সোহাগ, নজরুল ইসলাম ছোটন, মহসিন কবির রকি, ফয়সাল সিদ্দীকি, সফিউল আলম সপু, শহিদুল ইসলাম, মনজুরুল আলম সুজন, ব্যারিস্টার রেদওয়ান আহমদ রানজিব ও মো. ইসা।
সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস কুমার পাল সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
হাইকোর্টের দেওয়া জামিনের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় মঙ্গলবার বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করে তারা জামিনের আবেদন করলে আদালত জামিন দিয়েছেন।
গত ৯ এপ্রিল বিএনপিপন্থী ২৪ আইনজীবীর নামে শাহবাগ থানায় মামলা করেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির প্রশাসনিক কর্মকর্তা রবিউল হাসান। পরদিন ১০ এপ্রিল বিচারপতি মো. ইকবাল কবীর ও বিচারপতি এ কে এম রবিউল হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ তাদের ১২ সপ্তাহের আগাম জামিন দিয়েছিলেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত ৬ এপ্রিল আসামিরা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান ও জামায়াতের নামে স্লোগান দিয়ে হঠাৎ মিছিল বের করেন। তারা প্রথমে আইনজীবী সমিতির দুই নম্বর হল রুমে, পরে এক নম্বর হল রুমে প্রবেশ করে ইফতার অনুষ্ঠানের প্রধান বিচারপতির নাম সংবলিত সব ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন। আইনজীবী সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত আসনের চেয়ার-টেবিল ভেঙে ফেলে সমিতি ভবনে অরাজক অবস্থার সৃষ্টি করেন। এ সময় বাধা দিলে আসামিরা সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট রকিবুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট পানু খান ও অ্যাডভোকেট মো. শাহনেওয়াজসহ অন্য আইনজীবীদের ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া সাধারণ আইনজীবীদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসামিরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এ সময় আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক ইফতার অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সমিতির নিচ তলার সিঁড়ি দিয়ে দ্বিতীয় তলায় উঠছিলেন। আসামিরা তাকে গালাগাল করে এবং পানিভর্তি বোতল ছুড়ে মারেন।
Leave a Reply