কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সহিংসতা ও চলমান কারফিউয়ের কারণে পর্যটকশূন্য বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার। এতে হতাশ হয়ে পড়েছেন পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি ২ সপ্তাহে কক্সবাজারে পর্যটনের সব খাতে ১৫০ কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে। পরিস্থিতি চলমান থাকলে এর প্রভাবে পর্যটন সংশ্লিষ্ট অন্তত ২০ হাজার শ্রমিক বেকার হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
চলমান কারফিউ ও কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে অস্থিরতার কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে কক্সবাজার পর্যটন শিল্প। কক্সবাজারে সাড়ে ৪শ হোটেলে ও গেস্ট হাউসে গত ১৩ দিনে আবাসিক হোটেল খাতে ১০০ কোটি টাকা ও পাশাপাশি রেস্তোরাঁসহ অন্যান্য গুলোতে আরও ৫০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি স্থানীয় পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের।
পরিস্থিতি এ ভাবেই চলতে থাকলে অনেক হোটেল শ্রমিক তাদের চাকরি থেকে ছাঁটাই হতে পারে। এই মুহূর্তে কক্সবাজারে পর্যটক নেই। সৈকতের ইনানী হতে কলাতলি ও লাবনী বিচে শুনশান নীরবতা নেই কোন কোলাহল। সমুদ্র পাড়জুড়ে একেবারে নিস্তব্ধতা।
গত ১৬ ও ১৭ জুলাইয়ে আসা ১০ হাজার পর্যটক আন্দোলনের সময় আটকা পড়লে তাদেরকে গত সপ্তাহে সেনাবাহিনীর পাহারায় ৭৫টি বাসে করে ফিরে গেছে। দেশের পরিবেশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে প্রায় সব হোটেল-মোটেল বন্ধ হয়ে যাবে ও চরমভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হবে পর্যটন শিল্পে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
সোমবার বিকেলে সৈকতের লাবণী পয়েন্ট ঘুরে দেখা যায়, চারদিকে সুনসান নীরবতা। ব্যস্ততা নেই সৈকতের ফটোগ্রাফার, বিচ বাইক-ওয়াটার বাইক চালক ও ঘোড়াওয়ালাদের। কক্সবাজার হোটেল-মোটেল গেস্টহাউস মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ জানান প্রতিদিন যে পরিমান লোকসান হচ্ছে তাতে অনেকে দেউলিয়া হতে পারে। দেশের স্বার্থে জনগুরুত্বপূর্ণ কক্সবাজার ও চট্টগ্রামকে যেকোন ধরনের অবরোধের আওতা মুক্ত রাখার দাবি জানান তারা।
বর্তমানে কক্সবাজার নিরাপত্তা চাদরে ঢাকা রয়েছে। জেলায় নাশকতার ৬ মামলায় এ পর্যন্ত বিএনপি জামায়াতে শিবিরের অর্ধশত জনকে আটক করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
Leave a Reply