বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেরে এক দফা দাবিতে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর পর থেকে একের পর এক ভিডিও বার্তা দিয়ে যাচ্ছেন তারে ছেলে সজীব ওয়াজেদ। এবার জয় দিয়েছেন এক বিস্ফোরক তথ্য। তিনি বলেছেন, ‘আমার মা কখনোই আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেননি। সেই সময়ই তিনি পাননি।’
শনিবার (১০ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই দাবি করেন।
জয় বলেন, ‘একটি বিবৃতি দিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার (হাসিনা)। কিন্তু আন্দোলনকারীরা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে অগ্রসর হতে লাগল এবং তখন আর সময় ছিল না। এমনকি আমার মা গোছানোর সময়টুকুও পায়নি। সংবিধান যেহেতু আছে, তিনি এখনো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।’
সজীব ওয়াজেদ জয় জানান, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন যদিও সেনাপ্রধান এবং বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সংসদ ভেঙে দিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়াই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের বিষয়টি আদালতে চ্যালেঞ্জ করা সম্ভব।
তিনি বলেন ‘আমার মা ভুল কিছু করেননি। তার সরকারের লোকেরা বেআইনি কাজ করেছেন। তার মানে এই নয় যে- আমার মায়ের নির্দেশেই এ কাজগুলো করেছে। যারা এসবের জন্য দায়ী, তাদের বিচারের আওতায় আনা উচিত।’
ছাত্র আন্দোলনে প্রায় ৩০০ জন নিহত হয়েছেন। এর দায়ে শেখ হাসিনার বিচারের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা, রয়টার্সের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘গ্রেফতারের হুমকিতে আমার মা আগেও কখনো ভয় পাননি। তিনি ভুল কিছু করেননি।’
আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নেবে বলেও রয়টার্সকে জানিয়েছেন জয়। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও গণতান্ত্রিক নির্বাচন করতে বিএনপিকে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে আমি আগ্রহী।’
প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হতে চান জানিয়ে জয় আরও বলেন, ‘চলতি মেয়াদ শেষে এমনিতেই আমার মা রাজনীতি থেকে অবসরে যেতেন। যদি দল আমাকে চায়, আমি অবশ্যই সেটা বিবেচনায় রাখব।’
শেখ হাসিনা চলে যাওয়ার পর গত বৃহস্পতিবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেন নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এই সরকারের মেয়াদ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।
Leave a Reply