গত দেড় দশকে বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে কত টাকা ভাগাভাগি হয়েছে- সেই তথ্য জানতে চেয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এ খাতটিতে একদিকে লোকসানের অজুহাতে ভর্তুকী, অন্যদিকে- মুনাফা বোনাসের নামে বছরে শত কোটি টাকা ভাগাভাগি কোম্পানিগুলোর। তথ্য বলছে, বছরে মুনাফার ৫ শতাংশ ভাগ-বাটোয়ারা হয় কোম্পানিগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে। অর্থনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, মুনাফা ভাগাভাগির আড়ালে লুটপাট করেছে বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টরা।
বিদ্যুৎ-জ্বালানিতে লোকসান দেখিয়ে গত দেড় দশকে দফায় দফায় দাম বাড়িয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার। সমন্বয়ের নামে বাড়তি দামের বোঝা নাগরিকদের ওপর চাপিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগ, পিডিবি, আরইবি ও পেট্রোবাংলার আওতায় থাকা উৎপাদন কোম্পানিগুলো প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা মুনাফার হিসাব দিয়েছে। কারণ মুনাফার ৫ শতাংশ ভাগ-বাটোয়ারা হয় কোম্পানিগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে। ভর্তুকির টাকায় মুনাফা বোনাস ভগাভাগিকে অনৈতিক-অযৌক্তিক বলছেন বিশ্লেষকরা।
পিডিবির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০০৮-২০০৯ অর্থবছর থেকে ২০২৩-২০২৪ অর্থবছর পর্যন্ত ১৬ বছরে রাষ্ট্রীয় এই সংস্থাটি লোকসান দেখিয়েছে ২ লাখ ২ হাজার কোটি টাকার বেশি। এ সময় পাইকারি পর্যায়ে ১২ বার ও খুচরা পর্যায়ে ১৪ বার বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে লোকসান কমানোর চেষ্টা করেছে সরকার। ভর্তুকি দিয়েছে ১ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকার বেশী। অন্যদিকে, ‘মুনাফা’ বোনাসের নামে বছরে ভাগাভাগির অর্থের পরিমাণ কম বেশী একশ’ কোটি টাকা। ২০২১-২২ অর্থবছরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ১৮ লাখ টাকা করে মুনাফা বোনাস দিয়েছিল সরকারি প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সরকারি কোম্পানিগুলো মুনাফা বোনাসের নামে গত দেড় দশকে কত টাকা ভাগেযোগে খেয়েছে তা তদন্ত করবে অন্তর্বর্তী সরকার। এরইমধ্যে এ সংক্রান্ত তথ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর নির্দেশনা জারি করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।
Leave a Reply