রাষ্ট্র সংস্কারের বিশাল কর্মযজ্ঞে চাপা পড়ে গেছে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম। তাই অফ সিজনেও এই ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যু থামছে না। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন- ডেঙ্গু এখন শুধু মৌসুমী নয়, বছরব্যাপী ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। এর অন্যতম কারণ জলবায়ু পরিববর্তনের প্রভাব হলেও, ডেঙ্গু মোকাবেলায় সিটি করপোরেশনের উদাসীনতাকেও দুষলেন তারা। জোর দিলেন জনসচেতনতার ওপর।
বলা হয় জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ। তবে সেই ধারণা ভেঙে এবার নভেম্বরের শেষের দিকেও বাড়ছে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। গেল রবিবার বছরের রেকর্ড ভেঙে একদিনে ১১ জনের মৃত্যুর খবর আবারো ভাবাচ্ছে সাধারণ মানুষকে। এখনো প্রতিদিনই হাসপাতালে আসছেন হাজারো রোগী। হাসপাতালগুলোর ডেঙ্গু ডেডিকেটেড ওয়ার্ডগুলোর চিত্রই বলে দিচ্ছে সংক্রমণ কোন পর্যায়ে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, গতবছর এ রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন এবং মৃত্যু হয় এক হাজার ৭০৫ জনের, যা দেশে এক বছরে সর্বোচ্চ। তবে গেল কয়েক বছর ধরেই ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যু। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সব মিলিয়ে ৮৯ হাজার ৬০৩ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ৪৭৫ জন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা দায়ী করলেন সিটি করপোরেশনের উদাসীনতাকে।
পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, প্রতি সপ্তাহে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা আগের সপ্তাহের তুলনায় বেড়েছে ২০ শতাংশের বেশি।
বিগত বছরগুলোতে মশাবাহিত রোগে আক্রান্ত ও মৃত্যু
২০১৯ সাল: আক্রান্ত- ১ লাখ এক হাজার ৩৫৪ জন। মৃত্যু- ৩০০ জন।
২০২১ সাল: আক্রান্ত- ২৮ হাজার ৪২৯ জন। মৃত্যু-১০৫ জন।
২০২২ সাল: আক্রান্ত- ৬২ হাজার ৩৮২ জন। মৃত্যু- ২৮১ জন।
২০২৩ সাল: আক্রান্ত- ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন। মৃত্যু- ১৭০৫ জন।
২০২৪ সাল (জানুয়ারী থেকে ২৭ নভেম্বর): আক্রান্ত- ৮৯ হাজার ৬০৩ জন। মৃত্যু- ৪৭৫ জন।
Leave a Reply