নববর্ষের রাতে বিকট শব্দে গান বাজানো, আতশবাজির কারণে অসুস্থ্য রোগী, শিশু এবং পশুপাখী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কিছু মানুষের আনন্দের কারণে, লাখ লাখ মানুষ আতঙ্কে থাকে। কিছু নাগরিক শুধু বিকট শব্দে গান বাজিয়ে শব্দদূষণই করে না, বেপরোয়া গাড়ী চালিয়ে শব্দদূষণ সৃষ্টি করে। পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন-পবা এ সকল অবস্থার অবসানে মঙ্গলবার ৩১ ডিসেম্বর একাধিক মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য ও আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশকে আহ্বান জানিয়েছে।
সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন-পবা’র পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই আহ্বান জানানো হয়।
এই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইংরেজি নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে আতশবাজি, পটকা ফোটানো ও ফানুস উড়ানো বন্ধে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এর মোবাইল কোর্ট (ভ্রাম্যমাণ আদালত) পরিচালনার উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছি।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আতশবাজি পোড়ানোর কারণে মানুষের সাংস্কৃতিক বিপর্যয়, শারীরিক বিপর্যয় এবং জীববৈচিত্র্যের বিপর্যয় ঘটছে। বায়ুমন্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস) -এর গবেষণায় দেখা যায়, ২০২৩ সালে ইংরেজি নববর্ষে আতশবাজি ও ফানুস পোড়ানোর সময় ৩৬ শতাংশ ও ২০২৪ সালে ৩৫ শতাংশ বায়ুদূষণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়া ২০২৩ সালে শব্দদূষণ ১০২ শতাংশ ও ২০২৪ সালে শব্দদূষণ ৪২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। গবেষণার তথ্য মতে, গত ৭ বছরে ৩১ ডিসেম্বর রাত ১১টা থেকে ১টা (১ জানুয়ারি) পর্যন্ত গড়ে ৯০ শতাংশ সময় শব্দের মাত্রা ৭০ ডেসিবল অতিক্রম করেছে, যা মানবস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। সম্প্রতি এই গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন-পবা’র পক্ষ থেকে পরিবেশ অধিদপ্তর, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশকে ৯৯৯-র সাথে সমন্বয় করে, ৩১ ডিসেম্বর রাতে নাগরিক আতংক সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানাচ্ছি। এসময়, শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা ২০০৬ এবং অন্যান্য পরিবেশ সুরক্ষা আইনের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। নাগরিক সুরক্ষা এবং প্রাণ প্রকৃতিকে বাঁচাতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো এ ধরনের পদক্ষেপ নেবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
Leave a Reply