বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা ও জেলজীবন একইসূত্রে গাঁথা। ২০১৮ সালে ফেব্রুরিতে কারাবন্দি করা হয় তাকে। বিএসএমএমইউ হাসপাতালে গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে ভিতরে প্রবেশ করলেও বের হন হুইল চেয়ারে। এর মধ্যে বিদেশে চিকিৎসার দাবি জানানো হলেও তৎকালীন সরকার সেই সুযোগ দেয়নি। উল্টো বয়সের দোহাই দিয়ে একরকম তাচ্ছিল্য করেন তখনকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তবে শেষপর্যন্ত ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে হাসিনা সরকারের পতনের পর সম্পূর্ণ মুক্তি পান সাবেক তিন বারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
ওয়ান ইলেভেন সরকারের দায়ের করা বিতর্কিত এক মামলায় ২০১৮ সালে ৮ ফেব্রুয়ারি ৫ বছরের সাজা দেয়া হয় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে। প্রথমে পুরানঢাকার পরিত্যাক্ত কারাগারে নিয়ে রাখা হয় বিএনপি চেয়ারপার্সনকে।
এরপর একই বছরের এপ্রিলে অসুস্থ হয়ে পড়লে বেগম খালেদা জিয়াকে নেয়া হয় রাজধানীর বিএসএমএমইউ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেদিন গাড়ি থেকে হেটে নামতে দেখা যায় সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে। এখন পর্যন্ত এটিই ছিল গাড়ি থেকে নেমে হেটে চলার শেষ দৃশ্য। এরপর ক্রমেই অসুস্থ হতে থাকেন বেগম খালেদা জিয়া।
২০২০ সালে করোনা সংক্রমণের ভয়াবহ পরিস্থিতে নির্বাহী আদেশে বেগম জিয়ার সাজা স্থগিত করা হয়। ২৫ মার্চ বেগম খালেদা জিয়াকে যখন হাসপাতাল থেকে বের করা হচ্ছিল, তখন খবই অসুস্থ ছিলেন তিনি। হাটাচলার মতো পরিস্থিতিও ছিল না তাঁর। হুইল চেয়ারে করে তোলা হয় গাড়িতে।
সেই অবস্থায় নেতাকর্মী বেস্টিত হয়ে গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় পৌঁছান তিনি। এরপর থেকে বাসায় থেকে দেশেই চিকিৎসা নিতে হয় বেগম খালেদা জিয়াকে।
এরমধ্যে পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার দাবি জানানো হলে, সরকার বারবার নাকচ করে দেয়।
বেশ কয়েকবার গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে এভারকেয়ার হাসপাতালে। ২০২১ সালে এপ্রিলে করোনা আক্রান্ত হন বেগম জিয়া। ধীরে ধীরে আরো কিছু গুরুতর রোগে আক্রান্ত হন তিনি। দেখা দেয় জটিলতা।
এরমধ্যে লন্ডনে অবস্থান করা ছেলে তারেক রহমান বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে মায়ের চিকিৎসা ও মুক্তি জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চান। মুক্তির জন্য রাজনৈতিকভাবে নানা কর্মসূচিও পালন করা হয়।
টানা গত ৬-৭টি বছর বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়েই ছিল দেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল বিএনপির অন্যতম দুশ্চিন্তা । নানা আন্দোলন সংগ্রামেও নিশ্চিত করা যায়নি তার বিদেশে চিকিংসা। ৫ আগস্টে ছাত্র জনতার অভ্যুথানে শেখ হাসিনার পলায়নের পর খালেদা জিয়ার বন্দি জীবনের অবসান হয়।
Leave a Reply