লস এঞ্জেলেসের ইটন এলাকায় ভয়াবহ দাবানলে হাজার হাজার মানুষ তাদের বাড়ি হারিয়ে মানবেতর পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন। বুধবার তীব্র আগুন ছড়িয়ে পড়ায় পুরো এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বহু মানুষ রাস্তায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হন, অনেকেই এখন রোজ বোল পার্কিংয়ে আশ্রয় নিয়েছেন।
সংকটময় পরিস্থিতিতে গত শুক্রবার, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও সহায়ক সংস্থাগুলো একটি বিশাল আউটডোর দান কেন্দ্র স্থাপন করে। এসময়, তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের খাদ্য, পোশাক এবং স্বাস্থ্যসেবা সামগ্রী বিতরণ করে। প্রথমে, রোজ বোলে দান গ্রহণ কার্যক্রম শুরু হলেও, শুক্রবার পাশের আরেকটি ভবনের পার্কিং লটে স্থানান্তর করা হয়। অনেকেই এ সাহায্য-সহযোগিতার অপেক্ষায় ছিলেন, বিশেষত যাদের কাছে আশ্রয় বা রক্ষা পাওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না।
দানকৃত সামগ্রীগুলো ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের সাময়িক সময়ের জন্য কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে। লস এঞ্জেলেসের এই বিপর্যয়ে, স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলো তৎপর হয়ে কাজ করছে।
এখন পর্যন্ত এই দাবানলে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ১০,০০০টি ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে, যেহেতু দাবানলগুলো এখনও নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে।
বিপর্যয়ের দৃশ্য দেখে স্ট্রিট ভেন্ডর জিমি মিডিনা জুনিয়র তার পরিবার ও বন্ধুদের সহযোগিতায় মানবিক সাহায্যের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য খাবার সরবরাহ করতে শুরু করেন। জিমি মিডিনা জুনিয়র জানিয়েছেন, তার টিকটক লাইভ ব্রডকাস্টের মাধ্যমে এর শুরু হয়েছিল। তার লাইভ সেশনের মাধ্যমে অনেক মানুষ আকৃষ্ট হয়। জিমি মিডিনার বাবা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তারা ৬০০টি হট ডগ বিপর্যস্ত মানুষদের মাঝে বিতরণ করেছেন।
শুক্রবার ব্যাপক দান সংগ্রহ ও বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। পুরো দিনব্যাপী, অগ্নিকাণ্ডের শিকাররা দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয়তা পূরণের জন্য বিভিন্ন জিনিসপত্র গ্রহণ করেছেন, যার মধ্যে ছিল দাঁতের ব্রাশ থেকে শুরু করে অন্যান্য পণ্য। স্বেচ্ছাসেবকরা ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য করতে দানকৃত কাপড়ের প্যাকেটগুলো বাছাই করছিলেন।
দান কেন্দ্রটির স্থান পরিবর্তনের কারণে কিছুটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলেও, স্বেচ্ছাসেবকরা এবং বিনামূল্যে খাবার সরবরাহকারী বিক্রেতারা ইতিবাচক মনোভাব বজায় রেখেছেন। তারা তাদের কাজের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থেকে সাহায্যের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন।
শত শত স্বেচ্ছাসেবক একযোগে পার্কিং লটে কাজ করতে ব্যস্ত ছিলেন। এ পরিস্থিতি ছিল অতি উদ্বেগজনক এবং তীব্র। দান কেন্দ্রের স্বেচ্ছাসেবক আন্নাস্তেসিয়া অ্যান্ডারসন বলেন, এই ভয়াবহ সময়ে সরকার থেকে এখনও তাদের কাছে কোনো সহায়তা আসেনি, ফলে তাদের নিজেদের উদ্যোগে একে অপরকে সাহায্য করতে হবে।
Leave a Reply