যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর কঠিন সব নিষেধাজ্ঞার শিকার ইরান ও রাশিয়া। নিষেধাজ্ঞার ফলে ব্যাপক চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দুই দেশেরই অর্নৈতিক ও সামরিক খাত। এরই মাঝে সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন ডনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের বিরুদ্ধে বরাবরই কঠোরতম অবস্থানে যাওয়ার পক্ষে তিনি। অন্যদিকে রাশিয়ার ব্যাপারেও একই নীতি অনুসরণ করে যুক্তরাষ্ট্র।
এ প্রেক্ষাপটে আগামীতে আরো কার্যকরভাবে পশ্চিমাদের মোকাবেলার লক্ষ্যে বিস্তৃত পরিসরে নতুন একটি কৌশলগত চুক্তিতে পৌঁছেছে ইরান ও রাশিয়া। এর আওতায় আছে পারমাণবিক, সামরিক খাতসহ বাণিজ্য, জ্বালানি, বিজ্ঞান, শিক্ষা ও সংস্কৃতি খাত। শুক্রবার মস্কোতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ওই চুক্তিতে সই করেন।
এ চুক্তিকে যুগান্তকারী অভিধা দিয়ে পুতিন বলেছেন, দুই দেশের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রশ্নে এটি গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘস্থায়ীভাবে দুই দেশের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিষয়ক সম্পর্ক জোরালো হবে। একই সাথে সাম্প্রতিক বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে দুই দেশের পররাষ্ট্র নীতিগত ঐক্য সৃষ্টির ক্ষেত্রেও এটি ভূমিকা রাখবে।
বহির্বিশ্বের চাপ এবং অবৈধ ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নিষেধাজ্ঞা মোকাবেলার ক্ষেত্রে দুই দেশ এক হয়ে কাজ করবে বলে জানান পুতিন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অন্তত ২০ বছরের জন্য নতুন এই কৌশলগত চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, কার্যকরভাবে চুক্তির বিষয়গুলো নির্ধারণের জন্য কয়েক বছর পর্যালোচনা ও যাচাইবাছাই চলেছে। ফলে এই চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে অনেক বেশি আশাবাদী তিনি। চুক্তিতে নিরাপত্তার বিষয়টিকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। পারমাণবিক প্রকল্প নিয়েও বড় আকারে সমঝোতার বিষয় অন্তর্ভুক্ত আছে এতে। এর আওতায় ইরানে একাধিক পারমাণবিক জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানান পেজেশকিয়ান।
একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নতুন এই চুক্তির আওতায় চিরশত্রু ইসরাইলকে মোকাবেলায় রাশিয়ার কাছে উন্নত প্রযুক্তির অস্ত্র চেয়েছে ইরান।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের শপথ নেয়ার আগ মুহূর্তে করা এই চুক্তির মধ্য দিয়ে পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে নতুন অক্ষ শক্তির উত্থান যে দিন দিন আরো জোরালো হচ্ছে সেই বার্তাই পৌঁছে দিতে চেয়েছে তেহরান ও মস্কো। ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিতিশীলতার মাঝে পশ্চিমা দেশগুলোর আধিপত্য কোনোভাবেই মেনে নেয়া হবে না, তারই প্রদর্শনী এটি।
সব মিলিয়ে ট্রাম্প ক্ষমতায় বসার পর বিদেশ নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে তার জন্য চ্যালেঞ্জ আকারে হাজির হতে পারে এ চুক্তি। একই সাথে এর মধ্য দিয়ে ইসরাইলকেও এক ধরনের কড়া সতর্কবার্তা জানালো ইরান। স্পর্শকাতর বলে কৌশলগত এ চুক্তির অনেক বিষয়ই প্রকাশ্যে আনা হয়নি।
Leave a Reply