হামাসের হামলা ঠেকানোর ব্যর্থতায় পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন ইসরাইলের সেনাপ্রধান লেফট্যানেন্ট জেনারেল হেরজি হালেভি।
হামাস দমনের মুখোশ পরে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে সামরিক সামর্থ্যের প্রায় সবটা নিয়ে নিপীড়িত-নির্যাতিত-নিরস্ত্র গাজাবাসীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ইসরাইল। অত্যাধুনিক সমরাস্ত্রের নির্দয় ব্যবহারে ১৫ মাসে প্রায় ৪৭ হাজার ফিলিস্তিনিকে প্রকাশ্যে হত্যা আর অগনিত মানুষকে গোলায় ছিন্নভিন্ন করে ইট-পাথরের স্তুপে চাপা দেওয়ার পরও বলা হচ্ছে হামাস নির্মূলের গল্প। আলোচনা আর বিশ্লেষণে ঘুরেফিরে এসেছে হামাসের অতর্কিত হামলায় ইসরাইলের সামরিক দম্ভ গুঁড়িয়ে যাওয়ার লজ্জা। এর থেকে দৃষ্টি ফেরাতে গাজায় চরম প্রতিশোধের বর্বরতা চালিয়েও শেষ রক্ষা হলো না। হামাসকে প্রতিরোধে ব্যর্থতার বিষয়টি এবার বের হয়ে এলো খোদ ইসরাইলের সেনা প্রধানের মুখ থেকে। এখানেই শেষ নয়, পদত্যাগেরও ঘোষণা দিয়েছেন সরকারের ভেতরে-বাইরে চাপ সামলে টিকে থাকা লেফট্যানেন্ট জেনারেল হেরজি হালেভি।
সেনাপ্রধান হালেভি জানিয়েছেন, পদত্যাগ করবেন আগামী ৬ মার্চ। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজের কাছে দেওয়া পদত্যাগপত্রে লিখেছেন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তার নেতৃত্বাধীন সামরিক বাহিনীর ব্যর্থতা প্রতিদিন, প্রতি ঘন্টা এমনকি আজীবন তাড়িয়ে ফিরবে।
এদিকে দখলদারদের মুহুর্মূহু গোলায় প্রায় মাটির সাথে মিশে যাওয়া গাজা ভূখণ্ডে ফিলিস্তিনিদের ফেরার ঢল অব্যাহত আছে। বাতাসে বারুদ আর লাশের দুর্গন্ধ। সবশেষ রেখে যাওয়া বাড়িঘরের আর স্মৃতির লেশমাত্র না পেলেও নিখোঁজ প্রিয়জনের লাশের খোঁজে ধ্বংসস্তুপ সরানো আর মাটি খোঁড়ার কাজে নেমেছেন অনেকে। এতে যুদ্ধবিরতি শুরুর প্রথম দু’দিনেই পাওয়া গেছে অন্তত ১২০টি লাশ। এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতির শর্ত মেনে গাজায় ঢুকছে ত্রাণের বহর। মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) তৃতীয় দিনের মতো প্রায় নয়শ ত্রাণবাহী ট্রাক গাজায় ঢুকেছে বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের বিশেষ সমন্বয়ক মুহান্নাদ হাদি। বলেছেন, তিনদিনে দুই হাজার চারশ’র বেশি মানবিক সহায়তাবাহী ট্রাক ঢুকলেও ত্রাণের লুটপাট ঠেকানো যাচ্ছে না।
অন্যদিকে, ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি স্থাপনকারী ইহুদিদের ওপর থেকে নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার রেশ না কাটতেই আরেক ধাপ এগিয়ে বক্তব্য দিলেন এলিস স্টেফানিক। জাতিসংঘে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে মার্কিন দূত হিসেবে মনোনীত এই নেত্রীর দাবি, পশ্চিম তীর ইহুদিদের দখলের অধিকার দিয়েছে পবিত্র বাইবেল। ট্রাম্পের শপথের রাত থেকে পশ্চিম তীরের কারকিয়া শহর আর জেরুজালেম সীমান্তবর্তী একাধিক গ্রামে তাণ্ডব চালানো শুরু করেছে ইহুদি উগ্রপন্থিরা। বাড়িঘর-ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট চালানো হয়েছে। ব্যাপক মারধর আর হামলায় আহত করা হয়েছে ফিলিস্তিনিদের।
Leave a Reply