নিউজনাও ডেস্ক: প্রতারণা করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে রয়েছে আশিকুর রহমান ও ফারজানা পারভিন দম্পতির বিরুদ্ধে। আশিকুর রহমান সরকারী চাকুরিজীবি হওয়ায় নিজ স্ত্রী ফারজানাকে দিয়ে হাতিয়ে নেন লাখ লাখ টাকা। লেনদেনের সকল চুক্তি স্ত্রী ফারজানার নামে করলেও কৌশলে জামিনদার ও স্বাক্ষী হিসেবে নিজের (আশিকুর রহমান) নাম উল্লেখ করেন চুক্তিনামায়। তাদের বেপরোয়া ও দাপুটে প্রতারণার স্বীকার মাতুয়াইল এলাকার বাসিন্দা (নাম প্রকাশ না করার শর্তে) বলেন, সবজি দোকানদার, মুদীখানা, ঔষধ ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বিকাশ ব্যবসায়ী এমনকি স্বর্ন ব্যাবসায়ী কেউই রেহাই পায়নি। সর্বশান্ত হয়ে গেছে, পথে বসেছে বহু মানুষ।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ফারজানা পারভিন এর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ৬টি প্রতারণা মামলায় ইতোমধ্যে গ্রেফতারী পরওনা জারি হলেও অদৃশ্য ইশারায় ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে যায় প্রতারণার মাস্টার মাইন্ড স্বামী আশিকুর রহমান। তিনি কখনো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, কখনো কাস্টমস কর্মকর্তার ছোট ভাই, ঠিকাদার, আবার কখনো স্বর্ণ ব্যবসায়ী পরিচয়ে প্রতারণার ফাঁদ ফেলতেন। পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে মতিঝিল থানাধীন ১০ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা মুনসুর এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হওয়ায় দলীয় প্রভাব খাটিয়ে সমাজসেবা অধিদপ্তরে সমাজকর্মী হিসেবে অবৈধভাবে নিয়োগ পান। তারপর থেকে পেছনে তাকাতে হয়নি এই তাদের।
টাকার নেশায় পেয়ে যায় আশিক ফারজানা দম্পতিকে। টানা সাড়ে ১৫ বছর আওয়ামী শাসনামলে তারা আরো বেপরোয়া প্রতারক বনে যান। চালাতে থাকেন নানা ফন্দি-ফিকির। উদ্দেশ্য, যে করেই হোক টাকা কামাতে হবে। মাতুয়াইল এলাকার একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, আশিক ফারজানার আগের ইতিহাস আরো বিতর্কিত, নাটকীয়। সাইবার ক্রাইমের মতো। আড়ালে আবডালে অপরাধ করে নিজেদের পকেট ভারি করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ছায়াতলে চিরস্থায়ী আশ্রয় নেন। তাদের নানান অপকৌশলে প্রতারিত হয় প্রতিবেশী সাধারণ মানুষ।
নিউজ নাও এর তথ্য মতে, ২০১৭ সালের মে মাসে আশিকুর রহমান কে ফকিরাপুল এলাকায় দখল বাণিজ্য নিয়ে প্রশ্ন করায় দৈনিক আমাদের সময় পত্রিকার সিনিয়র সাংবাদিক জুয়েল রানার উপর হামলা করেন আশিকসহ ১৫/২০ জনের সন্ত্রাসীদল। হাসপাতাল সূত্র বলছে, সন্ত্রাসী আশিকুর রহমানের হামলায় মারাত্মকভাবে আহত হয়ে হাসপাতালে ৫/৭ দিন চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফেরেন সাংবাদিক জুয়েল রানা।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ছাত্রদের উপর হামলার অভিযোগও রয়েছে আশিকুর রহমানের বিরুদ্ধে। ২৭ জুলাই শনিবার বিকেলে যাত্রাবাড়ী থানা এলাকায় নিরীহ ছাত্রদের উপর হামলা করার জন্য ২ লাখ টাকার বিনিময়ে ১০ জন সন্ত্রাসীকে ভাড়া করার পেছনেও গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রেখেখেছেন আশিকুর রহমান। সূত্রমতে, হামলাকারীদের চুক্তির টাকা যোগান দিয়েছেন তারই সহোদর বড় ভাই মো: সেলিম ওরফে বান্ডিল সেলিম।
স্থাণীয় স্বর্ণ ব্যাবসায়ী জামাল উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, আশিক ফারজানা আমার প্রতিবেশী হওয়ায় সামাজিক সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে আমার কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন ইতালী নেয়ার শর্তে। জাল সইকৃত ৬ লাখ টাকার ২টি চেক (Dutch-Bangla Bank, Jamal Uddin- যথাক্রমে 7141042 তারিখ 30/09/2024 ও 5874550 তারিখ 02/10/2024 প্রদান করলেও গণ-অভ্যুথ্থানে হাসিনা সরকার পতনের পর তাদেরও আর দেখা মেলেনি। ফলে আমি আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছি। যদিও মামলা তুলে নেয়ার জন্য আমাকে এবং আমার পরিবারকে নানানভাবে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছে প্রতিনিয়ত।
শুধুমাত্র জামাল উদ্দিন নয়, একই এলাকার বাসিন্দা শিউলির কাছ থেকে ৯ লাখ ১০ হাজার, নাছরিন আক্তার ৭০ লাখ টাকা, শাহাদাত নামক আরেক বাসিন্দা (ওষুধ ব্যবসায়ী)’র কাছ থেকেও ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে।

ফারজানা পারভিন
সার্বিক অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মুঠোফোনে আশিকুর রহমান ও ফারজানা পারভিন এই প্রতিবেদককে মারধর করার হুমকি দেয়। তাদের বিষয়ে লেখালেখি করলে মেরে ঝুলিয়ে রাখারও হুমকি প্রদান করে থেমে থাকেননি, মুঠোফোনে একাধিক ক্ষুদে বার্তাও পাঠিয়েছেন।
রাজধানীর মাতুয়াইল এলাকার বাসিন্দা আফসার মিয়া বলেন, আমি ছোটখাটো ফ্লেক্সিলোড আর বিকাশ ব্যবসা করে সামান্য টাকা রোজগার করে সংসার চালাতে হয়। আমার ছেলেকে সরকারী চাকরি পাইয়ে দেয়ার জন্য গ্রামের জমি বিক্রি করে ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা আশিকুর রহমানকে দিয়েছি। কিন্তু জুলাই বিপ্লবের পর খেকে তাকে এবং তার স্ত্রীকে আর এলাকায় দেখতে পাইনি। চুক্তিনামা নিয়েও ঘডিমশি করায় আমার চুক্তিটা করা হয়নি। আইনের আছে যাওয়ার রাস্তাও আমার বন্ধ। স্ত্রী সন্তান নিয়ে খুবই মানবেতর জীবন কাটাচিছ, যোগ করেন আফসার মিয়া।
জিয়াউর রহমান, নাছরিন এবং শিউলিদের পাওনা টাকা ফেরতসহ আশিকুর রহমান ও ফারজানা পারভিনের প্রতারণা কান্ড সঠিকভাবে তদন্ত পূর্বক আইনের আওতায় এনে যথাযথভাবে মাধ্যমে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দাবি করছেন স্থাণীয় বাসিন্দারা।
এনা/সা/মা
Leave a Reply