কিছুতেই থামছে না আকাশপথের নৈরাজ্য। সৌদি আরবসহ বিশ্বের প্রায় সকল গন্তব্যের প্লেনের টিকিটের দাম বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হলেও বিমান বন্দরের বাড়তি মাশুল কমানোর উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। উল্টো গ্রুপ টিকিট বিক্রি বন্ধে মন্ত্রণালয়ের জারি করা পরিপত্র সংকট আরও বাড়িয়েছে। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে হাজার কোটি টাকার ব্যবসা বিদেশি ট্রাভেল এজেন্টদের হাতে চলে যাওয়ার পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব কমার শঙ্কা করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, বেশকিছুদিন ধরেই ঊর্ধ্বমুখী উড়োজাহাজের টিকিটের দর। বিভিন্ন গন্তব্যের টিকিট আগে ৩০ থেকে ৬০ হাজার টাকায় পাওয়া গেলেও এখন মিলছে না লাখ টাকাতেও। উচ্চ ভ্রমণ করসহ গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং, ল্যান্ডিং ও পার্কিংসহ এয়ারপোর্টের বিভিন্ন সেবার মাশুল বৃদ্ধিতে দাম বেড়েছে টিকিটের। বাড়তি সেই দরকে উস্কে দিয়েছে ডলার সংকটে এয়ারলাইন্সগুলোর টিকিট বিক্রির টাকা নিজ দেশে নিতে পারার জটিলতা।
অন্যদিকে, টিকিটের উচ্চ দর নিয়ন্ত্রণে সরকার পরিপত্র জারি করলেও থামেনি অরাজকতা। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকাকেই এজন্য দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা। এয়ারলাইন্স মালিকদের সংগঠন- বারের পক্ষ থেকে এক চিঠিতে সরকারের পরিপত্রকে আইন পরিপন্থী দাবি করে বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। এ নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কিছু না জানালেও যৌক্তিক ব্যাখ্যা নেই দর নিয়ে সবচে বেশি সরব থাকা আটাব (অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ) নেতাদের কথাতেও।
নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মঞ্জুর কবীর ভুঁইয়া স্বীকার করেন যে, বাণিজ্যিক দর নির্ধারণের স্বাধীনতা এয়ারলাইন্সের রয়েছে। তবে, তারা যা করেছেন, বাধ্য হয়ে করেছেন।
এভিয়েশন বিশ্লেষকরাও বলছেন, দর নিয়ে আইকাও বা আইআটা’র নিয়ম-কানুনের বাইরে গিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া ঠিক হবে না।
উড়োজাহাজের টিকিটের দর সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনতে সেবার মাশুল কমানো এবং ডলার সংকট দূরাসহ চিহ্নিত সমস্যা দূর করার তাগিদ বিশেষজ্ঞদের।
Leave a Reply