1. news.infotreat@gmail.com : admin :
  2. iftesyfunmarjan@gmail.com : ifte syfun : ifte syfun
  3. shahedshafiq24@gmail.com : Shahed Shafiq : Shahed Shafiq
  4. tanzinaislam00@gmail.com : tanin tanin : tanin tanin
বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৭ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
দুদকের প্রেস ব্রিফিং চ্যালেঞ্জ করে আসিফ মাহমুদের রিটের আদেশ ১১ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে আজ মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোট, দুই দলের জমজমাট লড়াইয়ের সম্ভাবনা তাহসিফ সৌরি হত্যা মামলায় দীপকে আবারও রিমান্ডে চায় পুলিশ ১ মাস কারাভোগের পর মুক্তি পেলেন জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান বাংলাদেশ-ইউএইর সিইপিএ চুক্তি দ্রুত সম্পাদনের তাগিদ অনুশীলনে অঘটন, ভারত সিরিজের আগে আরও এক দুঃসংবাদ নিউজিল্যান্ডের আমার সঙ্গেও এ রকম হয়েছে, যেটা খুবই বিরক্তিকর: পারসা ইভানা হাড় মজবুত রাখতে জরুরি তিন পুষ্টি, খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার কুইক রেন্টালের নামে লুটপাটের পরিবর্তে সাশ্রয়ী উপায়ে বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন: প্রেসসচিব

  • আপডেট সময় : বুধবার, ২ এপ্রিল, ২০২৫
  • ১৪৬ বার পঠিত

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেসসচিব শফিকুল আলম বলেছেন, দেশের পরিস্থিতি অনেকটা উন্নতি হয়েছে। ২০২৬ সালের জুনের ৩০ তারিখের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বেসরকারি টেলিভিশন নিউজ২৪ এর ‘গল্পের ঈদ’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রেসসচিব শফিকুল আলম। এ সময় সঙ্গে তার স্ত্রী সাবিনা জাহান লুনাও উপস্থিত ছিলেন। তিনি পেশায় একজন শিক্ষক। এ সময় দুজনই তাদের ঈদের পরিকল্পনা জানান।

তিনি বলেছেন, ‘বর্তমান সরকার এখন অনেক গোছানো। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সবাই অনেকটা উদ্বিগ্ন ছিলো, সেই পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। পুরো রমজানে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল ছিলো। অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দিক দিয়েও সরকার এখন অনেকটা প্রতিষ্ঠিত।’

প্রধান উপদেষ্টার বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ‘যদিও স্যার (প্রধান উপদেষ্টা) বলেন, আমরা এখনও একটা যুদ্ধ অবস্থায় আছি। তবে আমরা মনে করি, আগস্টে আমরা যে জায়গায় ছিলাম সেখান থেকে বড় একটা উত্তরণ হয়েছে।’

পরিবারের সবার সঙ্গে ঈদের দিন সময় কাটানোই মূল পরিকল্পনা থাকে বলে জানান প্রেসসচিব।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেসসচিব হিসেবে যুক্ত হওয়ার পূর্বে শফিকুল আলম দেশের বাইরের একটি বার্তা সংস্থায় চাকরি করতেন। সাংবাদিক শফিকুল আলম আর প্রেসসচিব শফিকুল আলমের মধ্যে কোনো পার্থক্য পেয়েছেন কিনা? উপাস্থাপকের এমন প্রশ্নে সাবিনা জাহান লুনা বলেন, ‘আকাশপাতাল পার্থক্য পেয়েছি। আমাদের বিয়ের ২৫ বছর হয়ে গেছে। তবে গণ-অভ্যুত্থানের পর তাকে (শফিকুল আলম) অনেক পরিবর্তন হতে হয়েছে। আগে একদম পুরাই ফ্যামিলি ম্যান ছিল। এখন তো সারাক্ষণেই সরকারের দেশের জন্য আমাদেরকে একটু টাইম কম দিচ্ছে। তবুও আলহামদুলিল্লাহ দেশের জন্য করুক, এটাই চাওয়া। দেশের ভালো হোক।’

পূর্বের সময়ের প্রেসসচিব এবং বর্তমানের দায়িত্বটা ভিন্ন জানিয়ে শফিকুল আলম বলেন, ‘আগে যেসব প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাদের সঙ্গে যেসব সাংবাদিকের সক্ষতা ছিল তাকে এই পোস্টটা দেওয়া হতো। তিনি খুব বেশি কাজ করতেন না। মাঝে মধ্যে বিদেশি ডিগনিটারি আসলে তাদের জন্য কিছু আয়োজন করাই ছিল তাদের কাজ।’

নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমাকে প্রচুর ইনফর্ম থাকতে হয়। সপ্তাহে তিনটি প্রেস ব্রিফিং করতে হয়, এ জন্য ম্যটারিয়াল জোগাড় করতে হয়। সব সময় সতর্ক থাকতে হয়’

কখনও ভেবেছিলেন যে আপনি প্রেসসচিবের দায়িত্ব পালন করবেন? উপাস্থাপিকার এমন প্রশ্নের উত্তরে শফিকুল আলম বলেন, ‘আমার মনে হয়নি। প্রফেসর ইউনূসের সঙ্গে আমার খুব বেশি হৃদ্রতা ছিল এমনটাও না। পেশাগত কারণে আমি তাকে অনেক সময় কাভার করেছি। উনার প্রতি যে অন্যায়-অবিচার চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল, সেটা নিয়ে আমরা কাভার করেছিলাম। সেই সূত্রেই উনি আমাকে চিনতেন। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর হঠাৎ আমি একদিন ফোন পেলাম। জানতে চাওয়া হলো, আমি আগ্রহী কিনা।’

প্রেসসচিব হিসেবে শফিকুল আলমকে নিয়ে বিভিন্ন সময় আলোচনা-সমালোচনা ও চর্চা হয়। এটি কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘আগের প্রেসসচিবরা কোনো কাজ করতেন না। আগের কালচারটা ছিলো, প্রাইম মিনিস্টার তার সঙ্গে দহরম-মহরম সম্পর্ক ছিলো তাকে নিয়োগ দেওয়া হতো। যারা কোনো কাজই করতেন না। কিন্তু আন্তর্জতিকভাবে প্রেসসচিবের কাজ অনেক। সেগুলোই আমি করে যাচ্ছি। এজন্য সবার কাছে মনে হচ্ছে আমি অনেক কাজ করছি। মূলত এটি আমার কাজ।’

ড. মুহাম্মদ ইউনূস সম্পর্কে প্রেসসচিব বলেন, ‘পুরো পৃথিবীতে তো উনি সেলিব্রেটি। এটা আমি আরো জানতে পেরেছি এই গত সাড়ে সাত আট মাসে। তাকে বাইরে যে মর্যাদার সঙ্গে ট্রিট করা হয় সেটি অবিশ্বাস্য। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ডাভোসে আমরা গিয়েছি ওইখানে যেয়ে আমরা জাস্ট ঢুকছি এই সময় খবর আসছে যে তার (ড. ইউনূস) সাথে জার্মানির চ্যান্সেলর মানে ওদের প্রাইম মিনিস্টার কথা বলবেন। উনি অ্যাপয়েন্টমেন্ট চাচ্ছেন। উনার যে স্ট্রাচার এটা তো আনবিলিভেবল।’

তাদের সম্পর্কে বন্ধুত্বটা একটু বেশি জানিয়ে সাবিনা জাহান লুনা বলেন, ‘আমরা তো ক্লাসমেট। তাই আমাদের মধ্যে বন্ধুত্বটা একটু বেশি। আমাদের মধ্যে একজন একটু রেগে গেলে অন্য জন চুপ থাকি।’

ভাইরাল মাফলার সম্পর্কে প্রেসসচিব বলেন, ‘মাফলারটা আমার স্ত্রীর বোন কানাডা থেকে নিয়ে আসছেন। যে দাম বলা হচ্ছে সেটির ধারে কাছেও না। তবে খুব চিপও না। এটা অনেক বছর ধরে ব্যবহার করে আসছি। যখন এটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয় তখন লেভেলটা দেখেছি। এটি আমার পছন্দের একটি মাফলার।’

অনেক হুমকি বা ট্রলে কিভাবে প্রভাবিত করে জানতে চাইলে প্রেসসচিবের স্ত্রী সাবিনা জাহান লুনা বলেন, ‘ভীষণভাবে ভয় পাই। মন খারাপ হয়। আমাকে খুব ভাবায়। তবে এখন আস্তে আস্তে অভ্যস্ত হয়ে গেছি।’

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় শেষ হয়ে গেলে ‘গন্তব্য’ কী হবে জানতে চাইলে শফিকুল আলম বলেন, ‘এটি নিয়ে এখনও ভাবিনি। আমাদের এখনো আরো কয়েক মাস তো আছে। মেবি ইলেকশনটা যখন হবে তারপরে আমি ছেড়ে দিব। খুব একান্ত ব্যক্তিগত ইচ্ছা যে বই লেখা কিন্তু এতে তো সংসার চলে না আমার তো সংসার চলাতে হবে। সেই চিন্তা করে আমার হয়তো জার্নালিজমে আমার ফিরতে হবে। আবার কেউ কেউ বলেন যে ভাই আপনি তো প্রেস কনফারেন্স খুব ভালো করেন পলিটিক্সে আসেন। তবে ওইটাও আমি অতোটা দেখি না। দুই তিনজন বলার কারণে পলিটিক্সের বিষয়টি মাথার মধ্যে ঢুকছে, পরে আমি ওয়াইফের সাথে বলছিলাম তবে সে বলে দিয়েছে, একদম না কোনভাবেই এইটা করা যাবে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘নতুন বাংলাদেশে যদি আমি কিছু কন্ট্রিবিউট করতে পারি সেটাও একটা কাজ হবে। কিন্তু আমার প্রাইমারি ইচ্ছা আমি জার্নালিজমে ফিরে যাওয়া, তবে সেটি লোকাল জার্নালিজমে হতে পারে। নিজে যদি কোনো পত্রিকা দিতে পারি সেটার একটা খুব ইচ্ছা আছে।’

নাগরিক হিসেবে হিসেবে গণ-অভ্যুত্থান ও অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নিয়ে মূল্যায়ন জানতে চাওয়া হয় সাবিনা জাহান লুনার কাছে। তিনি বলেন, ‘যখন বাচ্চা বাচ্চা ছেলেদের মারা হচ্ছিল তা দেখে ট্রমাটাইজ হয়ে গেছিলাম। আমার স্কুলের এক ছেলেও মারা গেল, আহনাফ। এদিকে উনিও কিছুটা থ্রেটে ছিল, ধরে নিয়ে যাবে কিনা। সেই টেনশনে ওই সময়টা খুব খারাপ গেছে। তারপর যখন বিজয় আসলো তখন তো মনে হলো যে অনেক কিছুই হয়ে গেল। উনি যখন আমাকে বলল যে আমাকে ডাকছে অন্তর্বর্তী সরকার থেকে। আমি তখন কোনো কিছুই আর চিন্তা করি নাই, বললাম অন্তত দেশের সেবায় যাও। আর এমনি উনি ভালো মানুষ লোক ভালো সৎ মানুষ।’

অন্তর্বর্তী সরকারের অর্জন অনেক জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব বলেন, ‘অর্জনটা আসলে অনেক তবে দৃশ্যমান না। অর্জনটা আমি দেখি, একটা রেভুলেশন হলে বিপ্লব হলে যেই ধরনের কেওস তৈরি হয় সিচুয়েশন তৈরি হয় সেই জায়গাটা তো বাংলাদেশের মানুষ উইটনেসই করেনি। এটা না করার মূল কারণ হচ্ছে প্রফেসর ইউনূসের লিডারশিপের গুণ। দেখেন উনি কিভাবে এই পুরো সিচুয়েশনগুলো হ্যান্ডেল করলেন আমরা ম্যাসিভ বিদেশি আউটপোরিং অফ সাপোর্ট পেয়েছি প্রচুর সাপোর্ট আমাদের এসেছে। বাংলাদেশকে নতুন করে সবাই চিনছে। আমাদের ইকোনমি ঘুরে দাঁড়িয়েছে, ল অ্যান্ড অর্ডার আমি বলব যে বেটার দিকে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের পর নির্বাচিত সরকারের কাছে অন্তর্বর্তী সরকার যে বাংলাদেশকে সমর্পণ করবে সেটি আমার মনে হয় খুবই বেটার ও হেলদি অবস্থায় থাকবে।’

অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতা হিসেবে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় পুলিশ বাহিনীর মধ্যে কনফিডেন্স যত দ্রুত আনা প্রয়োজন ছিল সেটি আমরা পারিনি। এই জায়টায় আমাদের অনেক স্ট্রাগল করতে হয়েছে। মাস খানেকের মধ্যে এটিও ঠিক হয়ে যাবে।’

চলতি বছরের ডিসেম্বরের থেকে শুরু করে আগামী বছরের জুনের ৩০ তারিখের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন প্রেসসচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, ‘স্যারের কথা হচ্ছে, ডিসেম্বরে হবে নির্বাচন যদি রাজনৈতিক দলগুলো কম সংস্কার চায়। নতুবা এটা ২০২৬ এর ৩০ জুনের মধ্যে যে কোনো সময় হতে পারে। সেটি ফেব্রুয়ারি হতে পারে মার্চে হতে পারে এটি দলগুলোর সঙ্গে আলোনা করে বোঝা যাবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘তবে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের আয়োজন করতে নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি আছে বলে ইসির পক্ষ থেকে জানানো হচ্ছে।’

প্রধান উপদেষ্টার বিভিন্ন দেশে সফর নিয়ে প্রেসসচিব বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা যেখানেই যাচ্ছেন সেখানে নতুন বাংলাদেশের কথা বলছেন ওদের লিডারদের সাথে এবং যেখানেই যাচ্ছেন উনি ওই সমস্ত দেশের ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলছেন। কেননা তারাই তো এসে বিনিয়োগ করে। যে সমস্ত জায়গায় উনি গিয়েছেন প্রত্যেক জায়গায় উনার মেসেজটা হচ্ছে যে বাংলাদেশ হচ্ছে ‘রেডি ফর বিজনেস’। তোমরা আসো, বিনিয়োগ করো।’ এই ডাকে সাড়াও পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশ নিয়ে স্বপ্নের কথা জানিয়ে শফিকুল আলম বলেন, ‘আমি মনে করি বাংলাদেশটা একদিন অনেক অনেক বড় হবে। আমি মনে করি বাংলাদেশ ২০-৪০ বছর মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের একটি ধনী দেশ হবে। খুব সমৃদ্ধ একটি সভ্যতার অংশ হবে।’

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© All rights reserved © 2026 NEWS NOW BD
Theme Customized By Shakil IT Park