পরমাণু প্রকল্প নিয়ে সমঝোতা আলোচনার নামে ইরানকে ফাঁদে ফেলার যড়যন্ত্র করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। কোনোভাবেই এই ফাঁদে পা দেয়া যাবে না। এর মধ্য দিয়ে ইরানকে লিবিয়ার মতো ধ্বংসস্তূপে পরিণত করতে চায় পশ্চিমারা। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনায় বসার আগ মুহূর্তে সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে এই জোরালো সতর্কতা জানাচ্ছে ইরানের কট্টরপন্থীরা।
শনিবার তেহরানের চলমান পরমাণু প্রকল্প নিয়ে ওমানে আলোচনায় বসবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধি দল। ওয়াশিংটন এটিকে সরাসরি আলোচনা দাবি করলেও তেহরান বলছে, এটি পরোক্ষ আলোচনা।
ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির উদ্দেশ্যে দ্রুত গতিতে ইউরেনিয়াম পরিশোধনের মাত্রা বাড়াচ্ছে, এমনটাই দাবি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের। যদিও ইরান বলছে, তারা পরমাণু অস্ত্র বানাতে চায় না। এরপরও তাদের পরমাণু কার্যক্রমের লাগাম টেনে ধরতে এই আলোচনার আয়োজন। পরমাণু কার্যক্রম সীমিত করতে সম্মত হলে ইরানের ওপর থেকে তুলে নেয়া হবে কঠোর সব নিষেধাজ্ঞা। আর সমঝোতায় না এলে দেশটিতে হামলার হুমকি দিয়ে চলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এ বাস্তবতায় চিরশত্রু যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনায় বসতে রাজি হওয়ায় কট্টরপন্থীদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। তারা বলছে, ইরানের কিংবদন্তী কমান্ডার কাসেম সোলেমানিকে হত্যাকারী যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কোনো আলোচনা হতে পারে না। এসব তথ্য জানিয়ে ফলাও করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে লন্ডনভিত্তিক ইরানি গণমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল। ২০২০ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে গুপ্তহত্যার শিকার হন সোলেমানি।
কট্টরপন্থীরা চায়, নিজেদের সুরক্ষার জন্যই দ্রুত পরমাণু অস্ত্র তৈরি করুক ইরান। তা না করে সমঝোতার নামে উল্টো পরমাণু কার্যক্রম সীমিত করার ঘোরতর বিরোধী তারা। কোনো ভাবেই মার্কিনীদের সাথে সমঝোতা চুক্তিতে যাওয়া যাবে না, এটিই তাদের অবস্থান।
কট্টরপন্থীরা বলছে, আলোচনার নামে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে অস্ত্রহীন ও সামরিকভাবে দুর্বল করার ষড়যন্ত্র করছে। পশ্চিমাদের সাথে সমঝোতার ভিত্তিতেই ২০০৩ সালে লিবিয়ার পরমাণু অস্ত্র প্রকল্প বন্ধ করে দিয়েছিলেন দেশটির তৎকালীন রাষ্ট্রনায়ক মুয়াম্মার গাদ্দাফি। এরপর সেখানে ছড়িয়ে পড়ে ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ। আর তারই জের ধরে ২০১১ সালে মার্কিনীদের মদদপুষ্ট বিদ্রোহীদের হাতে খুন হন গাদ্দাফি। সমঝোতার ফাঁদে ফেলে ইরানকেও একই পথে হাঁটাতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। এই ফাঁদে পা দেয়া হবে ঐতিহাসিক ভুল এবং তাতে করে খামেনির পরিণতিও গাদ্দাফির মতো হতে পারে বলে কড়া সতর্কবার্তা দিচ্ছে কট্টরপন্থীরা।
কট্টরপন্থীদের গণমাধ্যম রাজা নিউজের অভিমত, সুপরিকল্পিতভাবেই ইরানে লিবিয়া মডেল কাজে লাগাতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। এ ব্যাপারে অতি উৎসাহী ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও। সর্বশেষ ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সাথে বৈঠকেও ইরানে লিবিয়া মডেল বাস্তবায়নের প্রতি সমর্থন দিতে দেখা যায় তাকে।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ট মিত্র, রিপাবলিকান মার্কিন সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম ও টম কটনও ইরানে লিবিয়া মডেল বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে চলেছেন। সার্বিক বাস্তবতায় সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনিকে এই ফাঁদ থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানাচ্ছে ইরানের কট্টরপন্থীরা।
Leave a Reply