কাশ্মীরের হিমালয়ে প্রবল বর্ষণে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় অন্তত ৬০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এই ঘটনায় ২০০ জনেরও বেশি নিখোঁজ রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুইজন সিআইএসএফ জওয়ান রয়েছেন বলেও খবর মিলেছে। ইতোমধ্যে উদ্ধারকাজে যোগ দিয়েছে ভারতের সেনাবাহিনী। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে শঙ্কা রয়েছে। ওই এলাকায় বিপুল সংখ্যক তীর্থযাত্রী বলে জানা গেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, এখনও পর্যন্ত ১০০ জনকে গুরুতর আহত এবং আশঙ্কাজনক অবস্থায় পাওয়া গেছে। হিমালয়ের অন্যতম তীর্থস্থান মা চণ্ডীর মন্দির মাচাইল মাতা যাত্রার তীর্থযাত্রার সময়কালে এই বিপর্যয় ঘটে। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই বিপদের সময়ে জম্মু-কাশ্মীর সরকারের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন অমিত শাহ।
কিস্তওয়ার থেকে ৯০ কিলোমিটার দূরে ৯ হাজার ৫০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত চাসোটি এলাকায় দুর্ঘটনা ঘটে। সেখান থেকেই সাড়ে ৯ কিলোমিটার হেঁটে যেতে হয় মন্দিরে। পূণ্যার্থীদের ওই স্থানে একটি অস্থায়ী লঙ্গরখানা খোলা হয়েছিল, সেটি একেবারে ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে গেছে। উধমপুর থেকে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর দুটি টিম কিস্তওয়ার গেছে উদ্ধারকাজে যোগ দিতে। ডাক্তার ও ওষুধপত্র নিয়ে মেডিকেল টিমও বিপর্যস্ত এলাকায় পৌঁছেছে।
জেলার পাড্ডার চাসোটি এলাকায় দুপুর ১২টা থেকে ১টার মধ্যে বিপর্যয়টি ঘটে। তখন সেখানে বিপুল সংখ্যার পুণ্যার্থী জড়ো হয়েছিলেন। সেখান থেকেই হেঁটে মন্দিরে যাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন তারা। হড়পা বানে স্থানীয় একটি লঙ্গরখানা ভেসে গেছে। যদিও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও হিসাবের বাইরে।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, জম্মু-কাশ্মীরের কিস্তওয়ার, কুপওয়ারা, বারামুল্লা, বন্দিপুরা, শ্রীনগর, গান্ডেরবাল, বদগাঁও ছাড়াও পুঞ্চ, রাজৌরি, রিয়াসি, উধমপুর, জম্মু, ডোডায় আগামী কয়েক ঘণ্টা ধরে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টি হবে। এছাড়াও বেশ কিছু এলাকায় আকাশ ভেঙে বৃষ্টিতে হড়পা বান ও ধসের আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। সুতরাং পরিস্থিতি যে খারাপের পথে তা অনুমান করাই যায়।
ভারতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তরের মতে, প্রবল মেঘ জমে মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে ১০০ মিমি (৪ ইঞ্চি) এর বেশি বৃষ্টিপাত হয় যা হঠাৎ বন্যা, ভূমিধস এবং ধ্বংসযজ্ঞের কারণ হতে পারে। বিশেষ করে, বর্ষাকালে পাহাড়ি অঞ্চলে এর আশঙ্কা থাকে।
দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুসারে, এই বছরের জুন মাসে শুরু হওয়া বর্ষার প্রথম দিকের বৃষ্টিপাতের পর থেকে প্রতিবেশী নেপালে বন্যা, ভারী বৃষ্টিপাত, ভূমিধস এবং শিলাবৃষ্টিতে কমপক্ষে ৪১ জন মারা গেছেন। এতে ২১ জন নিখোঁজ এবং ১২১ জন আহত হয়েছেন। এছাড়াও পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলীয় পাহাড়ি অঞ্চলে বৃষ্টিপাতজনিত ঘটনায় এক রাতে ৫০ জনেরও বেশি মানুষ মারা গেছেন। বন্যা এবং বাড়ির ছাদ ধসে পড়ার কারণে এই মৃত্যু হয়েছে।
Leave a Reply