প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত দেশের নাগরিকদের জন্য গ্রিনকার্ড ও ওয়ার্ক পারমিট পাওয়া কঠিন করে দেওয়া নীতিকে বৈষম্যমূলক ও বেআইনি বলে রায় দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত।
বোস্টনের যুক্তরাষ্ট্র জেলা বিচারক জুলিয়া কোবিক বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) এ রায় দেন এবং একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নীতির বিরুদ্ধে একটি প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। এই রায় এসেছে ২০টি দেশের প্রায় ২০০ জন অভিবাসন আবেদনকারীর করা একটি মামলার প্রেক্ষিতে। আবেদনকারীদের মধ্যে ইরান, হাইতি, ভেনিজুয়েলা ও সিরিয়ার নাগরিকরা রয়েছেন।
মামলাটি গত ডিসেম্বর দায়ের করা হয়। এতে অভিযোগ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (USCIS) আশ্রয় (asylum), গ্রিনকার্ড ও কাজের অনুমোদন আবেদন প্রক্রিয়ায় এমন নীতি গ্রহণ করেছে যা অভিবাসীদের ওপর অতিরিক্ত বাধা তৈরি করছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে USCIS এমন একটি নীতি কার্যকর করে, যেখানে ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাভুক্ত ৩৯টি দেশের নাগরিকদের জাতীয়তাকে আবেদন পর্যালোচনায় ‘গুরুত্বপূর্ণ নেতিবাচক বিষয়’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পরে আরও একটি সিদ্ধান্তে এসব দেশের আবেদন প্রক্রিয়াকরণ কার্যত স্থগিত করে দেওয়া হয়।
বিচারক কোবিক রায়ে বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি প্রমাণিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে যে এ নীতি ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্ট-এর জাতীয়তাভিত্তিক বৈষম্য নিষিদ্ধ করার বিধানের পরিপন্থী। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আশ্রয় ও নাগরিকত্ব আবেদন প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা কংগ্রেসের নির্দেশনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক, এবং গ্রিনকার্ড ও ওয়ার্ক পারমিট আবেদন স্থগিত করাও বিদ্যমান বিধিমালা লঙ্ঘন করে।
আদালত USCIS-কে নির্দেশ দিয়েছেন, অন্তত ২২ জন আবেদনকারীর ক্ষেত্রে এসব নীতি কার্যকর করা যাবে না। পাশাপাশি আদালত বাকি প্রায় ২০০ আবেদনকারীর ক্ষেত্রেও এই আদেশ প্রযোজ্য হবে কি না, তা নিয়ে পক্ষগুলোকে আলোচনার নির্দেশ দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (DHS) এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
বাদীপক্ষের আইনজীবী জিম হ্যাকিং রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেন, কংগ্রেস কখনোই জাতীয়তার ভিত্তিতে অভিবাসন সুবিধা সীমিত করার অনুমতি দেয়নি। সূত্র: রয়টার্স
Leave a Reply