রাজনীতিতে শেষ বলে আসলে যে কিছু নেই, তাই যেন আবারও প্রমাণ করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ১০ বছর আগে প্রকাশ্য যাকে ঘুষখোর বলে অভিহিত করেছিলেন, তার হাতেই কীনা তুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব! ২০১৬ সালে নির্বাচনের আগে যে শুভেন্দুকে দুর্নীতিবাজ বলে প্রচার করেছিলেন, সেই শুভেন্দুই এখন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর শপথ নেয়ার পর পরই নেট দুনিয়ায় নতুন করে ভাইরাল হয় ওই ভিডিওটি। ২০১৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভিডিওটি প্রকাশিত হলে নেট দুনিয়ায় সমালোচনার ঝড় ওঠে। তখন এই ভিডিওটিকেই জোরকদমে প্রচার করেছিল বিজেপি।
নেট দুনিয়ায় নতুন করে ভাইরাল ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রীর ঘুষ নেয়ার ভিডিও। তবে সেই শুভেন্দু অধিকারীকেই ১০ বছর পর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বানালো বিজেপি।
২০১৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে নারদ নিউজের ওয়েবসাইটে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। যেখানে দেখা যায় শুভেন্দু অধিকারীসহ একাধিক তৃণমূল নেতা টাকার বিনিময়ে কাজ পাইয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই ঘুষ হিসাবে নেয়া হয়েছে অন্তত পাঁচ লাখ টাকা।
২০১৬ সালের নির্বাচনে আগে এই ভিডিওটিকেই জোরকদমে প্রচার করেছিল বিজেপি। পরে শুভেন্দু বিজেপিতে যোগ দিতেই সেই ভিডিও নিজেদের অফিসিয়াল চ্যানেল থেকে মুছে ফেলে তারা। এখন সেই বিজেপিরই নেতা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী আর গোটা বিজেপি তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। প্রশ্ন উঠেছে নৈতিকতা আর আদর্শ আজ কি তাহলে মুখ থুবড়ে পড়েছে?
শুভেন্দুর রাজনীতির মূলধারায় তার প্রবেশ ঘটে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের মাধ্যমে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে তিনি দ্রুত সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান পান। ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলন শুভেন্দু অধিকারীকে রাতারাতি রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসে। বামফ্রন্ট সরকারের জমি অধিগ্রহণ বিরোধী সেই আন্দোলন পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির দিকই বদলে দেয় এবং শুভেন্দু হয়ে ওঠেন আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ। এই আন্দোলনের মাধ্যমেই ২০১১ সালে রাজ্যে পরিবর্তনের পথ প্রশস্ত হয়েছিল।
২০০৯ ও ২০১৪ সালে সাংসদ হিসেবে লোকসভায় যান শুভেন্দু অধিকারী। এরপর ২০১৬ সালে রাজ্যে ফিরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভায় পরিবহন ও সেচ দফতরের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। মেদিনীপুর থেকে জঙ্গলমহল তৃণমূলের সংগঠন বিস্তারে তিনি ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। তবে ক্ষমতার কেন্দ্রের কাছাকাছি থেকেও ধীরে ধীরে দলের ভেতরে দূরত্ব তৈরি হতে থাকে। রাজনৈতিক মতবিরোধ, সংগঠন নিয়ে টানাপোড়েন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়।
২০২০ সালের ১৯ ডিসেম্বর, পাল্টে যায় দৃশ্যপট। তৃণমূলের সঙ্গে দীর্ঘ সংঘাতের পর মেদিনীপুরের মাটিতে অমিত শাহের হাত ধরে বিজেপিতে যোগদান করেন শুভেন্দু। ২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নন্দীগ্রামের মাটিতে পরাজিত করেন তিনি। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবাংলায় শুভেন্দু অধিকারী বিজেপির প্রধান সেনাপতি হিসেবে অবতীর্ণ হন। একদিকে নন্দীগ্রাম ধরে রাখা এবং অন্যদিকে মমতার নিজের ঘাঁটি ভবানীপুর থেকে জয়লাভ।
Leave a Reply