বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশনারের দায়িত্ব নেওয়ার আগে দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন দীনেশ ত্রিবেদী। শুক্রবার (২২ মে) ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই’এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে মনোনীত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। বৈঠকে বাংলাদেশ-ভারতের সামরিক সহযোগিতা, সীমান্ত নিরাপত্তার মত বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর জনতথ্য বিভাগ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (২১ মে) হওয়া ওই বৈঠকে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই বলছে, সীমান্ত বরাবর নিরাপত্তা সমন্বয় এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রশ্নে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক ও কৌশলগত যোগাযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এই বৈঠক হলো।
এর আগে সংশোধিত নাগরিকত্ব (সিএএ) আইনকে ‘ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়’ হিসেবে বর্ণনা করে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘তাদের সিটিজেন নিয়ে তারা কী করবে, কীভাবে সিটিজেনশিপ নির্ধারণ করবে—এখন পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন হয়েছে, তাদের হতে নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বা তাদের নীতি অনুযায়ী তারা কী বলবে, সেটা তাদের সম্পূর্ণ নিজস্ব ব্যাপার। এখানে আমাদের কোনো বক্তব্য থাকার তো কথা না।’
সীমান্তে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে বিজিবি সতর্ক অবস্থায় আছে বলেও উল্লেখ করেন সালাহউদ্দিন। ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনাকে ফেরানোর বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা তাকে ফেরত চাই—আইনিভাবে চাই, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আমরা অনুরোধ করেছি, এক্সট্রাডিশন চুক্তি অনুসারে অনুরোধ করেছি—আমরা শেখ হাসিনাকে ফেরত চাই এবং আমরা চাই তিনি মামলা ফেইস করুন।’
সরকার আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।
এএনআই বলছে, সালাহউদ্দিনের বক্তব্যে স্পষ্ট যে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক বর্তমানে কীভাবে একটি বড় কাঠামোগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যা আঞ্চলিক কূটনীতির একটি রূপান্তরমূলক পর্যায়কে চিহ্নিত করছে।
Leave a Reply