কয়েক সপ্তাহের আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছালেও যুদ্ধের স্থায়ী অবসান নিয়ে এখনো রয়ে গেছে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা। বিশ্লেষকদের মতে, অন্তত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু এই সমঝোতাকে ভেস্তে দিতে পারে। বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এতে ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনার পথ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে সহায়তার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তবে প্রথম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে লেবানন ইস্যুকে। সমঝোতায় সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান বন্ধের কথা বলা হলেও ইসরাইল লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেছে। ইরান ও তাদের মিত্র হিজবুল্লাহ মনে করছে, লেবানন থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার যুদ্ধ অবসানের অপরিহার্য অংশ। অন্যদিকে ইসরাইল স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে লেবাননে সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বিরোধ সরাসরি সংঘাতে রূপ নিলে পুরো প্রক্রিয়াই ভেঙে পড়তে পারে।
দ্বিতীয় বড় বাধা ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ। আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) তথ্য অনুযায়ী, ইরানের কাছে প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ প্রায় ৪০০ কেজি ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে। যদিও তেহরান দাবি করছে তাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ, তবুও এই ইউরেনিয়াম কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের আশঙ্কা, ইরান পুনরায় অস্ত্রমানের ইউরেনিয়াম উৎপাদনের পথে গেলে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে।
তৃতীয় চ্যালেঞ্জ হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা। সমঝোতা অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ পুনরায় চালু হওয়ার কথা। তবে ইরান ইঙ্গিত দিয়েছে, ভবিষ্যতে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে কিছু সেবা ফি আরোপ করতে পারে। যদিও আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় প্রণালিতে অবাধ চলাচলের বিষয়টি নিশ্চিত করার পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলো অবস্থান নিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সমঝোতা কেবল আলোচনার একটি কাঠামো। যুদ্ধের স্থায়ী অবসান ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হলে এসব জটিল ইস্যুতে গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানোই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
Leave a Reply