রোহিঙ্গা গণহত্যা দিবসের নবম বার্ষিকী উপলক্ষে কক্সবাজারের উখিয়ায় র্যালি ও সমাবেশ করেছে ইউনাইটেড কাউন্সিল অব রোহিঙ্গা (ইউসিআর)। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৪ এক্সটেনশনের ব্লক-বি এলাকার ফুটবল মাঠে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত চলা এ কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা অংশ নেন। আয়োজকদের হিসাবে, র্যালি ও সমাবেশে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার মানুষ জড়ো হন। এর মধ্যে নির্ধারিত সমাবেশস্থলে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার এবং আশপাশের সড়ক ও পাহাড়ি এলাকায় প্রায় ১ লাখ মানুষ অবস্থান করেন। বিপুল জনসমাগমের কারণে সংশ্লিষ্ট সড়কগুলোতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
সমাবেশে ইউসিআরের সভাপতি মাস্টার জাহাঙ্গীর আলম, মৌলভী সৈয়দ উল্লাহ, মাস্টার খিন মং রফিক, মাস্টার মোহাম্মদ শোয়াইফ ও সাজেদা বেগমসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া নির্বাহী সদস্য মাওলানা জুবায়ের ও মাওলানা আবদু রহিমসহ অন্য নেতারাও কর্মসূচিতে অংশ নেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গাদের ওপর ব্যাপক নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ড চালানো হলেও তাদের ওপর নিপীড়ন ও বৈষম্যের ইতিহাস আরও দীর্ঘ। ওই সংকটের সময় মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তারা।
তবে দীর্ঘ নয় বছর ধরে শরণার্থী হিসেবে ক্যাম্পে বসবাস করাকে অত্যন্ত কষ্টকর উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, তারা আর শরণার্থী শিবিরের জীবন কাটাতে চান না। নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনকেই রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান হিসেবে উল্লেখ করেন তারা।
বক্তারা আরও বলেন, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তারা নিজ মাতৃভূমি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ফিরতে প্রস্তুত। তবে প্রত্যাবাসনের আগে নিজেদের নিরাপত্তা, মৌলিক অধিকার ও নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার পাশাপাশি কেড়ে নেওয়া সম্পদ ও বসতভিটা ফিরে পাওয়ার নিশ্চয়তা চান তারা।
সমাবেশে রোহিঙ্গা নেতারা দাবি করেন, ২০১২, ২০১৭ ও ২০২৪ সালে তাদের ওপর ধারাবাহিকভাবে বৈষম্য, নিপীড়ন ও বাস্তুচ্যুতির ঘটনা ঘটেছে। রাখাইনে বাস্তুচ্যুত হওয়ার আগে রোহিঙ্গাদের দীর্ঘদিনের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক ঐতিহ্য ছিল বলেও উল্লেখ করেন তারা।
রোহিঙ্গা গণহত্যা দিবস তাদের অতীতের নির্মমতার কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের দাবিকে আরও জোরালো করে—এমন মন্তব্যও করেন বক্তারা।
রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা, অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও কার্যকর ও দৃশ্যমান ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তারা।
সমাবেশ শেষে ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিহত রোহিঙ্গাদের স্মরণে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
Leave a Reply