জিম্বাবুয়ের মধ্যাঞ্চলে গির্জার সদস্যদের বহনকারী একটি মিনিবাসের সঙ্গে পণ্যবাহী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার সন্ধ্যার এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মিনিবাসটি আগুনে পুড়ে প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। আহতদের কয়েকজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৭ জনে দাঁড়িয়েছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) জিম্বাবুয়ে পুলিশ জানায়, শুক্রবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানী হারারে থেকে প্রায় ১৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে চিভুর কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশের মুখপাত্র পল নিয়াথি জানান, একটি যানবাহনকে ওভারটেক করার সময় পণ্যবাহী ট্রাকটির সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা মিনিবাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। মিনিবাসটিতে একটি জনপ্রিয় আফ্রিকান খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সদস্যরা ছিলেন। তারা একটি ধর্মীয় সম্মেলনে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জেডবিসি নিউজ এক প্রাদেশিক সরকারি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, দুর্ঘটনাস্থলেই ২৩ জনের মৃত্যু হয়। পরে আহত কয়েকজন স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত জেডবিসির ভিডিওতে দুর্ঘটনার ভয়াবহ চিত্র দেখা যায়। এতে মিনিবাসটিকে আগুনে পুড়ে কঙ্কালসার অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। বিপরীত পাশে ছিল পণ্যবাহী ট্রাকটি। দুর্ঘটনাটি ঘটেছে অপেক্ষাকৃত সমতল ও প্রত্যন্ত একটি সড়কে। রাস্তার দুই পাশে ছিল নিচু গাছপালা এবং এর বাইরে বিস্তৃত খোলা এলাকা।
জিম্বাবুয়ের সড়কে একের পর এক প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার সর্বশেষ ঘটনা এটি। দীর্ঘদিনের অর্থসংকট ও অবহেলার কারণে দেশটির অনেক সড়কেই বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে, যা সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে।
দেশটিতে দৈনন্দিন যাতায়াতের জন্য বিপুলসংখ্যক মানুষ বেসরকারিভাবে পরিচালিত মিনিবাস ট্যাক্সির ওপর নির্ভরশীল। স্থানীয়ভাবে এসব যান ‘কম্বি’ নামে পরিচিত। তবে যাত্রী বহনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত চাপ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে এসব মিনিবাসের বিরুদ্ধে।
এর আগে এপ্রিল মাসে দক্ষিণাঞ্চলের একটি মহাসড়কে একটি মিনিবাসে আগুন ধরে অন্তত ১৮ জন নিহত হন। একই মাসের শুরুতে জিম্বাবুয়ে ও দক্ষিণ আফ্রিকার সংযোগকারী আরেকটি মহাসড়কে পণ্যবাহী ট্রাকের সঙ্গে একটি গাড়ির সংঘর্ষে এক নারী ও তার পাঁচ সন্তান নিহত হন।
সূত্র: আলজাজিরা
Leave a Reply