মাগুরার আলোচিত শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিটু শেখের সাজা বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। সোমবার (৩১ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। রায়ের পর অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস বলেন, এটি একটি নির্মম ও বর্বরোচিত ঘটনা। আসামি হিটু শেখ নিজেই দেওয়া জবানবন্দিতে ঘটনার সবকিছু স্বীকার করেছেন। সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে উচ্চ আদালত নিম্ন আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রেখেছেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, হিটু শেখের জবানবন্দিতে শিশু আছিয়াকে ধর্ষণের চেষ্টা এবং তাতে ব্যর্থ হয়ে তার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানোর বিষয় উঠে এসেছে। তিনি বলেন, মামলার সার্বিক বিষয় বিবেচনা করেই উচ্চ আদালত নিম্ন আদালতের রায় বহাল রেখেছেন।
আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছেন, আসামিপক্ষের রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী সঠিকভাবে মামলাটি পরিচালনা করতে পারেননি।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৫ মার্চ মাগুরার নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হয় শিশু আছিয়া। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়। পরে ১৩ মার্চ ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় ৮ মার্চ আছিয়ার মা মাগুরা সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয় আছিয়ার বোনের শ্বশুর হিটু শেখকে।
মামলার বিচার দ্রুত শেষ হয়। ২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। ৭ মে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ার পর ১৩ মে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। পরে ১৭ মে মাগুরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করেন। একই মামলায় অভিযুক্ত আরও তিনজনকে খালাস দেওয়া হয়।
বিচারিক আদালতের মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর আইন অনুযায়ী ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পাশাপাশি দণ্ডপ্রাপ্ত হিটু শেখও রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন। ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শেষে হাইকোর্ট আজ নিম্ন আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। এর ফলে শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকলো।
Leave a Reply